Blog

  • ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    সুশান্ত দাস

    মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ভারতের। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো হয়ে পড়া দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন বা সংক্ষেপে ‘নাবিক’-কে (NavIC) পুনরুজ্জীবিত করার পথে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল এনভিএস-০৩ (NVS-03) স্যাটেলাইট।

    ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের এই তৃতীয় উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-নির্ভর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং (PNT) পরিষেবা— অর্থাৎ ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের পরিষেবা ফের চালু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরে এটি ইসরোর তৃতীয় মহাকাশ অভিযান। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন উৎক্ষেপণের পর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে তিনটি কার্যকর নেভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। এনভিএস-০৩ সফলভাবে যুক্ত হওয়ায় ‘নাবিক’-এর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইট পাওয়া সম্ভব হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিজস্ব ‘নাবিক’ ব্যবস্থা?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির ভাবনার পিছনে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। সেই সময় পাকিস্তানি সেনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেতে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার মার্কিন জিপিএস (Global Positioning System) তথ্য ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু আমেরিকা সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে যায়।

    এই অভিজ্ঞতা থেকেই ভারত নিজস্ব আঞ্চলিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০০৬ সালে সরকার ইন্ডিয়ান রিজিওনাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (IRNSS) প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সাতটি স্যাটেলাইট নিয়ে একটি নক্ষত্রমণ্ডল তৈরি করা। এর মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট থাকবে জিওস্টেশনারি অরবিটে এবং চারটি থাকবে ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে।

    ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর বিষুবরেখার উপরে স্থির অবস্থানে থাকা কক্ষপথকে বলা হয় জিওস্টেশনারি অরবিট। অন্যদিকে, ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে হল এমন একটি কক্ষপথ, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবর্তিত হলেও নিরক্ষরেখার তুলনায় কিছুটা হেলানো অবস্থায় থাকে।

    ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আইআরএনএসএস-১এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আরও ছয়টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে প্রাথমিক সাতটি উপগ্রহের নক্ষত্রমণ্ডল সম্পূর্ণ করে ইসরো। পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থারই নামকরণ করা হয় ‘নাবিক’।

    কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় ‘নাবিক’?

    ‘নাবিক’ শুধুমাত্র সাধারণ জিপিএস-এর বিকল্প নয়, এর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও কৌশলগত ব্যবহার। এর মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় ও ট্র্যাকিং, সামুদ্রিক নেভিগেশন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

    এই ব্যবস্থায় মূলত দু’ধরনের পরিষেবা রয়েছে—

    • ● স্ট্যান্ডার্ড পজিশনিং সার্ভিস (এসপিএস): সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নেভিগেশন পরিষেবা।

    • ● রেসট্রিক্টেড সার্ভিস (আরএস): নির্দিষ্ট অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য এনক্রিপ্টেড পরিষেবা। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী-সহ কৌশলগত ক্ষেত্রে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যায়।

    অর্থাৎ, দেশের সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন নেভিগেশন থেকে শুরু করে সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়—দু’ক্ষেত্রেই ‘নাবিক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন প্রয়োজন হল দ্বিতীয় প্রজন্মের এনভিএস স্যাটেলাইট?

    প্রাথমিক আইআরএনএসএস স্যাটেলাইটগুলির উৎক্ষেপণ ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর পরিষেবা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে পুরনো স্যাটেলাইটগুলির পরিবর্তে আরও উন্নত উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা নেয় ইসরো। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট বা এনভিএস (NVS) সিরিজ।

    নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক। পাশাপাশি, পুরনো এল৫ এবং এস ব্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এল১ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড। এই এল১ ব্যান্ডের সংযোজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ সাধারণ নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনে এই ফ্রিকোয়েন্সি বহুল ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এল১ সিগন্যাল যুক্ত হওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর সঙ্গে স্মার্টফোন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নেভিগেশন ডিভাইসের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল ‘নাবিক’?

    দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজ শুরু হলেও পুরনো স্যাটেলাইটগুলির একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ‘নাবিক’-এর স্বাধীন পজিশনিং পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইআরএনএসএস-১এ স্যাটেলাইটের তিনটি রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক-ই বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্যাটেলাইটটি দিয়ে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়ের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে সেটিকে মূলত মেসেজিং পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ ইসরো জানায়, আইআরএনএসএস-১এফ স্যাটেলাইটের অনবোর্ড অ্যাটমিক ক্লক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তার মাত্র তিন দিন আগেই স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত ১০ বছরের কার্যক্ষমতার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিল।

    একের পর এক স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর উপগ্রহের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র তিনটিতে। সেগুলি হল আইআরএনএসএস-১বি, আইআরএনএসএস-১আই এবং এনভিএস-০১।

    কেন চারটি স্যাটেলাইট ছাড়া সম্ভব নয় নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়?

    স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় কোনও গ্রাহকের ত্রিমাত্রিক অবস্থান অর্থাৎ অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের জন্য অন্তত চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সিগন্যাল প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, নেভিগেশন রিসিভারের নিজস্ব ঘড়ির ত্রুটিও সংশোধন করতে হয়।

    সাধারণভাবে চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে রিসিভার তার অবস্থান এবং সময় সংক্রান্ত ভুল হিসাব সংশোধন করতে পারে। কিন্তু ‘নাবিক’-এর ক্ষেত্রে পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা চারটির নীচে নেমে যাওয়ায় স্বাধীনভাবে অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা ব্যাহত হয়।

    সেই জায়গাতেই এনভিএস-০৩-এর গুরুত্ব। ৩০ অক্টোবর জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফল উৎক্ষেপণের পর এই স্যাটেলাইটটি কার্যকর হলে ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা পূরণ হতে পারে।

    এরপর কী? প্রস্তুত এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫

    এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণই অবশ্য ‘নাবিক’-এর সম্পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার শেষ ধাপ নয়। ইসরোর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও দুটি উন্নত নেভিগেশন স্যাটেলাইট—এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুটি স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটগুলি যুক্ত হলে ‘নাবিক’-এর পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যে নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পথে এগোল ভারত। এবার নজর এনভিএস-০৩-এর কার্যকর হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী দুই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের দিকে।

  • Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা বা সেনসাস (Census 2027)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। আগামী ১০ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে শুরু হবে স্ব-গণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা করবেন সরকারি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের জনগণনায় তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও প্রথমবারের মতো সংগ্রহ করা হবে।

    কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে

    মোট ৪০টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ১৩টি নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের মতো বিষয়গুলি উঠে আসবে এই প্রশ্নপত্রে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হবে বাবা ও মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কোভিড টিকাকরণের স্থান, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেই তথ্যও। এছাড়াও, উত্তরদাতাদের কাছে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর চাওয়া হতে পারে, যদি সেগুলি তাঁদের কাছে থাকে।

    ভোটমুখী রাজ্যে আগে শুরু প্রক্রিয়া

    চারটি ভোটমুখী রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই প্রক্রিয়া কিছুটা আগেই শুরু হবে। ওই রাজ্যগুলিতে ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনার সুযোগ। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা। অন্যদিকে, দেশের বাকি অংশে ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে। ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে সংশোধনী বা পুনরীক্ষণ পর্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের ১ মার্চ মধ্যরাতকে জনগণনার নির্ধারিত রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন এবং ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধির সংশ্লিষ্ট ধারার ভিত্তিতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

    কয়েকটি জায়গায় চলছে কাজ

    ইতিমধ্যেই লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত দুর্গম এলাকাগুলিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনসংখ্যা গণনার কাজ শেষ হয়েছে। তবে হিংসা কবলিত মণিপুরে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ের হাউস লিস্টিং অপারেশনস (HLO) বা বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছিল। মণিপুর বাদে দেশের সর্বত্র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুন ২০২৭ সালের জনগণনা সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার চূড়ান্ত পর্যায়ের সময়সূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল।

  • PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এই সাফল্যের জন্য ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা গোটা দেশকে গর্বিত করে। শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য নেভিগেশন পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বারবার দেশকে গর্বিত করে।” এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেট। উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহকে স্থাপন করে রকেটটি। মিশনের সাফল্য ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থা, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

    ন্যাভিক পরিষেবার গুরুত্ব

    ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভি-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ (NVS-03) হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (Navigation with Indian Constellation) বা ন্যাভিক (NavIC)-এর পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার কার্যকারিতা ও পরিসর আরও উন্নত করাই এই উপগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট-নির্ভর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ইতিহাসে যাঁর অবদান চিরস্মরণীয়, সেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে গোটা দেশ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস (Rashtriya Ekta Diwas) বা জাতীয় ঐক্য দিবস। স্বাধীনতার পর ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা এদিন বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্দার প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি, দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য দিবস।

    রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    নয়াদিল্লির প্যাটেল চকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেন। দেশের রাজনৈতিক সংহতি ও অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের ভূমিকা জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’, সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা মোদির

    সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’ এবং ‘জাতির লৌহমানব’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সক্ষম ভারত গড়ার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সর্দার প্যাটেল। মাতৃভূমির সেবায় তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা আজও বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের অবদান কখনও ভোলার নয়। তাঁর দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব এবং দেশ গঠনের প্রতি নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। এদিন গুজরাটের একতা নগরে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তেও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘আধুনিক ভারতের স্থপতি’, প্যাটেলকে কুর্নিশ অমিত শাহের

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে আধুনিক ভারতের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতীক সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। দেশবাসীকেও রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    শাহের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্যাটেলের সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি সুদৃঢ় হয়েছিল।

    দিল্লিতে ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে ‘রান ফর ইউনিটি’ (Run for Unity)-র সূচনা করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সর্দার প্যাটেল এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু ভারতের ইতিহাসই বদলাননি, দেশের ভৌগোলিক মানচিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীনতার পর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু প্যাটেলের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় সেই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছিল। তাঁর তৈরি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজ বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত।

    ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তিকরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এই অসামান্য অবদানের জন্যই ইতিহাসে তিনি ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) হিসেবে পরিচিত।

    তাঁর স্মৃতিতে গুজরাটের একতা নগরে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’। সর্দার প্যাটেলের রাষ্ট্রগঠন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের ভাবনাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস।

    দেশজুড়ে ঐক্যের শপথ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    শুধু দিল্লি বা গুজরাট নয়, রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার শপথ। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ‘রান ফর ইউনিটি’র আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

    দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ঐক্য, সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করারও উপলক্ষ।

  • Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Deepawali in Ayodhya) আগে আলোর অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে রামনগরী অযোধ্যা। আসন্ন দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির চত্বর। আধুনিক আলোর সাজে মন্দিরের অপূর্ব রূপ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের। উৎসবের আবহে মন্দিরের এই অপরূপ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram Janmabhoomi Mandir Ayodhya) তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা। ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, বর্ণিল আলোর সাজে ঝলমল করছে গোটা মন্দির চত্বর। দীপোৎসবের আগে এই সাজে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

    দীপোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের কাহিনি

    দীপোৎসবের সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক বহু প্রাচীন। রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান শ্রী রাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নগরবাসী সারি সারি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চলে আসছে। অন্ধকারের উপর আলোর জয় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় দীপাবলি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশ্বের নানা জায়গায় এই উৎসব পালিত হলেও রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত অযোধ্যার দীপোৎসবের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আলাদা।

    ভক্তির প্রদীপ জ্বালাতে আহ্বান, মন্দির ট্রাস্টের

    ট্রাস্টের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই ভক্তি ও ঐতিহ্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাস্টের বার্তায় জানানো হয়েছে, দীপোৎসবের অপেক্ষায় দিব্য আলোয় সেজে উঠেছে গোটা শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির প্রাঙ্গণ। বড় বড় গেট লাগানো হয়েছে রাজপথে। রাস্তার দু’ধারে মায়াবী আলো। একই সঙ্গে ভক্তদের এই পুণ্যলগ্নে ভক্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দীপাবলির আগে আলোয় সেজে ওঠা রাম জন্মভূমি মন্দির যেন ভক্তি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য ছবি তুলে ধরছে। ভগবান শ্রী রামের নামে দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিতে এখন উৎসবমুখর রামনগরী অযোধ্যা।

  • Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মুখপাত্র তথা সাংবাদিক সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয় খতিয়ে দেখার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পাশাপাশি, বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তাঁর কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সৌরভের এক্স ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করারও আবেদন জানানো হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি এস এ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। কাঞ্চিপুরম জেলার বাসিন্দা গণেশ কুমার এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং ২৮ অক্টোবর তা নথিভুক্ত হয়। আগামী ১১ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

    সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তদন্ত

    আবেদনকারীর দাবি, সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মামলায় তাঁকে ‘যোগেশ শর্মা ওরফে সৌরভ দাস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয়-সহ পারিবারিক পটভূমিও খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। তদন্তে তিনি বিদেশি নাগরিক বলে প্রমাণিত হলে তাঁর পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী বি জগন্নাথ, সৌরভ দাসের পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত কয়েকটি নথি আদালতের সামনে পেশ করেন। বিচারপতিরা সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখেন এবং তাতে উল্লেখ করা কয়েকটি তথ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান বলে জানা গিয়েছে।

    বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

    এছাড়াও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভ দাসের কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতও প্রশ্ন তোলে। হাইকোর্ট জানতে চায়, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে মামলাকারী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জানিয়েছিলেন কি না। এর উত্তরে আইনজীবী জানান, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গণেশ কুমার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও জবাব মেলেনি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সোশ্যাল সাইটে সৌরভ দাসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবি

    সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি তাঁর নামে পরিচালিত এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন মামলাকারী। একই সঙ্গে, বিচারব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্পর্কে ভবিষ্যতে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক পাসপোর্ট আধিকারিক, ইউআইডিএআই-এর চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, বিদেশসচিব এবং আইন ও বিচার মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকরা। অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আশুতোষ রাঙ্কা আবেদনটির সমালোচনা করেছেন।

  • Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    সুশান্ত দাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে শিলিগুড়ি করিডরকে (Siliguri Corridor) আরও সুরক্ষিত করার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পথকে দেশের অন্যতম নিরাপদ প্রতিরক্ষা করিডরে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চিনের সামরিক তৎপরতা, ডোকলাম সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ও একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সীমান্তে ভারী কামান ও সেনা পৌঁছতে যেখানে বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে তা কমে মাত্র ৩ ঘণ্টা হতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই ভূখণ্ডটি পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) নামে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের স্থলপথে যোগাযোগের প্রধান সংযোগস্থল এটি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এর দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং উত্তর-পূর্বে চিনের চুম্বি উপত্যকা (Chumbi Valley)। ফলে চারটি প্রতিবেশী দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের মাঝে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে প্রতিরক্ষা মহলে।

    বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই করিডরের উপর কৌশলগত নজরদারি সম্ভব। ২০১৭ সালের জুন মাসে ডোকলাম সংঘাতের সময় এই আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ, শত্রুর আকাশপথের হামলাতেও সচল থাকবে যোগাযোগ

    এই সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গটি মাটির প্রায় ২০ মিটার গভীর দিয়ে তৈরি করা হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির কাছে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রেলপথ।

    ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সামরিক পরিবহণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোন হামলার কারণে যাতে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই লক্ষ্যেই ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারী কামান, সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় রসদ দ্রুত সীমান্তবর্তী সেনা ছাউনিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আকাশপথে হামলার আশঙ্কা থাকলেও সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার বিকল্প তৈরি হবে।

    ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’, ৫৩৪ কোটি টাকায় সাত স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, শিলিগুড়ি করিডরের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বলয়কেও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’ (Operation Fortress Siliguri) পরিকল্পনার অধীনে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ছয়টি যোগাযোগ কেন্দ্র, ১২টি আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ১২টি বাঙ্কার বা বোমা আশ্রয়স্থল। প্রস্তাবিত পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার গভীরে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উত্তর সিকিমের ১৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নাথু লা গিরিপথের কাছে চিনা সেনার উপস্থিতি এবং তিব্বত সীমান্ত বরাবর চিনের নতুন পরিকাঠামো ও বসতি নির্মাণের প্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা বলয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার মুখেও সেনাবাহিনীর কমান্ড ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং রসদ সরবরাহ যাতে অক্ষত থাকে।

    বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা, বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিমালয় সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নেপাল, বাংলাদেশ, চিন ও ভুটান দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় এই করিডর ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ‘সফট স্পট’ বা দুর্বল কৌশলগত অবস্থান। বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই অঞ্চলের উপর নজর রাখা সম্ভব।

    তাঁর মতে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে চিন ও বাংলাদেশের যৌথ সমীক্ষা এবং লালমনিরহাটের পুরনো বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও ভারতের নিরাপত্তা মহলে নজরে রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর ও সিকিম সংলগ্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো এবং একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    ‘চিকেনস নেক’ থেকে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’, বদলাচ্ছে সেনার প্রতিরক্ষা কৌশল

    শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতীয় সেনার প্রতিরক্ষা কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামরিক মহলের একাংশের আলোচনায় ‘চিকেনস নেক’-এর পরিবর্তে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’ (Elephant’s Trunk) নামটিও উঠে আসছে। এর পিছনে রয়েছে করিডর সংলগ্ন এলাকায় একাধিক নতুন সামরিক ঘাঁটি এবং নজরদারি পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    অসমের লাচিত বোরফুকন মিলিটারি স্টেশন পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক পরিকাঠামোর রসদ ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিহারের কিশানগঞ্জে নতুন সামরিক উপস্থিতি পশ্চিম দিকের যোগাযোগপথের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনার উপস্থিতি করিডরের নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ।

    এর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আগে যেখানে করিডরের নিরাপত্তা অনেকটাই একটি সরু ভূখণ্ডের উপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে এখন একাধিক দিক থেকে নজরদারি ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    এস-৪০০, ব্রহ্মস ও রাফাল, চিনের চুম্বি উপত্যকাকে নিশানায় রেখে প্রস্তুতি

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা শুধু স্থলপথে সেনা মোতায়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের রেজিমেন্ট এবং হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই সামরিক সক্ষমতার অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য চিনের চুম্বি উপত্যকা সংলগ্ন অঞ্চল। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের সময় যে ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই অঞ্চলকে মাথায় রেখেই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও সড়ক বা রেলপথ অবরুদ্ধ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও উন্নত রেডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উপস্থিতি প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।

    বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে কালাদান প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ থিয়েটার কমান্ড

    শিলিগুড়ি করিডরের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকেও নজর দিচ্ছে ভারত। মায়ানমারের মধ্য দিয়ে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প (Kaladan Multi-Modal Transit Transport Project) এবং নতুন রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর ফলে কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হলেও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহের বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও কালাদান প্রকল্পের সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে ওঠার বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    অন্যদিকে, ভারতের প্রস্তাবিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা কার্যকর হলে এই অঞ্চলের সামরিক পরিচালনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে করিডরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের নিরাপত্তা এবং সামরিক পরিচালনার দায়িত্ব পৃথক কমান্ড কাঠামোর অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে চিনকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হলে সেনা, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সম্ভব হবে। তবে এই থিয়েটার কমান্ড সংস্কারের জন্য এখনও কেন্দ্রীয় স্তরে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

    কেন ২০২৯ ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

    সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতের পরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি রেল সুড়ঙ্গ বা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় চার কোটি মানুষের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা তৈরি করা।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেলপথ, সাত স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়, নতুন সামরিক ঘাঁটি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিকল্প যোগাযোগপথ—সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    তবে এই পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর। ২০২৯ সালের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সামরিক প্রস্তুতিতে তা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলে চাকরি করতে ইচ্ছুক স্নাতক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। স্টেশন মাস্টার পদে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্ট্রালাইজড এমপ্লয়মেন্ট নোটিফিকেশন (CEN) নম্বর ০৮/২০২৬-এর অধীনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ২০২৬ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) অধীনে এই নিয়োগ করা হবে। রেলে স্থায়ী চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, এমন প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সমস্ত শর্ত ও যোগ্যতার মাপকাঠি ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কোন আরআরবি-তে কত শূন্যপদ?

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে স্টেশন মাস্টার পদের শূন্যপদের সংখ্যা নিম্নরূপ—
    – আরআরবি মুম্বই: ১৭৭টি পদ
    – আরআরবি জম্মু-শ্রীনগর: ১২২টি পদ
    – আরআরবি চেন্নাই: ১১৯টি পদ
    সব মিলিয়ে এই নিয়োগ অভিযানে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    কারা আবেদন করতে পারবেন?

    স্টেশন মাস্টার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের স্নাতক হতে হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বয়সসীমা, সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খতিয়ে দেখা জরুরি। নিয়োগের নির্বাচন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

    কীভাবে করবেন আবেদন?

    আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং বিজ্ঞপ্তি দেখতে নিচের ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে—
    – সরকারি আরআরবি ওয়েবসাইট: rrb.indianrailways.gov.in
    – অনলাইন আবেদন পোর্টাল: rrbapply.gov.in
    – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: CEN 08/2026-এর স্টেশন মাস্টার নিয়োগ

    আবেদনের পদ্ধতি অনলাইন

    অনলাইনে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে শূন্যপদের সংখ্যা, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা উচিত।

  • Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি এলেই দূষণের কথা মনে পড়ে! ক্রিসমাস, নববর্ষের সময়ও বাজি ফাটে, তখন এই উদ্বেগ কেন চোখে পড়ে না? দূষণ রোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উৎসব উদযাপনের অধিকার। একটা ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বাজি পোড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও মানুষের উৎসব পালনের অধিকার ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূষণ রোধ করতে হবে ঠিকই, তবে তার জন্য উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাই বাজি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষেই মত আদালতের। দীপাবলি উদ্‌যাপনের সময় আমজনতাকে কম দূষণকারী বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করি… কিন্তু আমাদের কাছে এটি এখন কেবল একটি ‘তাত্ত্বিক চর্চা’য় পরিণত হয়েছে। আমাদের নির্দেশগুলো মানার চেয়ে অমান্যই বেশি করা হয়।” আদালত আরও বলে, এখন সময় এসেছে “নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু” করার। বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেয় আদালত। প্রতি বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার যথাযথ পালন হচ্ছে না। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সহায়তা!

    দিল্লি-এনসিআরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের যুক্ত করার প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, রাজধানী অঞ্চলের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে এই পরামর্শ দেয় বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ। আদালতের মতে, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব দীপাবলির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, উৎসবের সময় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় না তারা। বর্তমান প্রজন্মও বাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

    দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব

    সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দিল্লি সরকার দূষণ মোকাবিলায় একাধিক প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন পুরনো গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ। শীতের মরশুমে দিল্লির বাতাসের গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে। একাধিক কারণে এই সময় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু বাজির উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।

    বাজির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উদ্বেগ আদালতের

    শুনানিতে আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিয়েও বাজির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম দূষিত কণার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে এই দূষিত কণাগুলি। এমনকী, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ক্র্যাকারও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ বাজির তুলনায় এগুলি কম দূষণ ছড়ালেও বায়ুদূষণে এর প্রভাব থেকে যায়।

    শুধু দীপাবলিতেই কেন দূষণ নিয়ে এত বিতর্ক?

    সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর নতুন করে সামনে এসেছে উৎসব ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক। প্রতি বছর দীপাবলি এলেই বাজি পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাজি নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। পরিবেশ দূষণ যে একটি বাস্তব সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, অন্যান্য উৎসব বা উদযাপনের ক্ষেত্রেও কি একইভাবে দূষণ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দেখা যায়? দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ষবরণ কিংবা বড়দিনের উদযাপনেও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পরিবেশগত পর্যালোচনা হওয়া উচিত নয়?

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট উৎসব বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দূষণের মাত্রা, নির্গমনের পরিমাণ, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীপাবলির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে প্রতি বছর দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে তুলে না ধরে, সমস্ত উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া উচিত বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাজির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসছে।

     

     

     

     

     

  • Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes) তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL) এই যুদ্ধজাহাজগুলি তৈরি করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী বিশেষত্ব এই নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলির?

    প্রস্তাবিত আটটি করভেট হবে প্রায় ২,০০০ টন ওজনের উচ্চগতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ। ঘণ্টায় নয়, নৌবাহিনীর প্রচলিত গতির একক নট অনুযায়ী, এগুলির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে প্রায় ৩০ নট। ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব নকশায় তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি এবং স্টেলথ প্রযুক্তি। ফলে শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে এগুলিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বহুমুখী অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা। সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রুর যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান, সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলা এবং আকাশপথ থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করার মতো কাজে ব্যবহার করা যাবে এই করভেটগুলি। পাশাপাশি নজরদারি, যুদ্ধজাহাজকে এসকর্ট করা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো দায়িত্বও পালন করতে পারবে এগুলি।

    উন্নত সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা, স্টেলথ নকশা এবং উচ্চ চালনক্ষমতার সমন্বয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একাধিক ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে জিআরএসই, বাকি ৩টি জিএসএল

    প্রকল্পটির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থার মধ্যে। বাণিজ্যিক দরপত্র খোলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই সর্বনিম্ন দরদাতা বা L1 হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার জিআরএসই তৈরি করবে পাঁচটি করভেট। বাকি তিনটি তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড। দুই সংস্থার ক্ষেত্রেই প্রতি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণমূল্য একই রাখার কথা।

    কলকাতার জিআরএসই-র জন্য এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বড় অঙ্কের এই বরাত সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি কাজের নিশ্চয়তা বাড়াবে। পাশাপাশি গোয়া শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ও নির্মাণ পরিকাঠামোও উপকৃত হবে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME), যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার কাছেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরির আশা করা হচ্ছে।

    ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ

    প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উপাদানের ব্যবহার। আটটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় সামগ্রী ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    কেন্দ্রের আত্মনির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat) উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নকশা, উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

    একই সঙ্গে প্রকল্পটি ভারতের SAGAR—Security and Growth for All in the Region—ভাবনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধজাহাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হাতে পাওয়ার লক্ষ্য

    প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও এবার মূল নজর নির্মাণের সময়সীমার দিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম করভেটের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণের সময় আরও কমিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়েও দুই শিপইয়ার্ডের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    পরবর্তী যুদ্ধজাহাজগুলির সরবরাহ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, তার উপর নির্ভর করবে নৌবাহিনী কত তাড়াতাড়ি নতুন করভেটগুলিকে সক্রিয় পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

    ২০২২ সালে শুরু, এবার চূড়ান্ত অনুমোদন

    নেক্সট জেনারেশন করভেট তৈরির পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই বিবেচনাধীন ছিল। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (Defence Acquisition Council) আটটি করভেট নির্মাণের জন্য Acceptance of Necessity বা প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

    এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া, ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই-র সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৬ সালে মূল্য নিয়ে আলোচনা-সহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করে প্রকল্পটি। এদিকে নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর সহযোগিতায় নেভাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NSTL) সফলভাবে হাইড্রোডাইনামিক মডেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। এবার CCS-এর অনুমোদনের ফলে চুক্তি স্বাক্ষর এবং নির্মাণকাজ শুরুর পথ আরও প্রশস্ত হল।

    চিনের উপস্থিতির মধ্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে সক্ষম করভেটও নৌবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্তাবিত করভেটগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো খুখরি-শ্রেণি ও কোরা-শ্রেণির করভেটগুলির জায়গা নিতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন যুদ্ধজাহাজগুলির কার্যকরী সক্ষমতা শুধু পুরনো জাহাজের বিকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নজরদারি, এসকর্ট, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এগুলি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    বর্তমানে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে নীলগিরি-শ্রেণির ফ্রিগেট, পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্লিট সাপোর্ট শিপের মতো বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে আটটি নেক্সট জেনারেশন করভেট যুক্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আরও আধুনিক ও বহুমুখী যুদ্ধজাহাজের সমন্বয় তৈরি হবে।

    সব মিলিয়ে, ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ। এখন চুক্তি স্বাক্ষর, নির্মাণের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়ই প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

LinkedIn
Share