Census-2027: দেশজুড়ে জনগনণায় চারটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, এজ জোড়া ম্যাসকট চালু করলেন অমিত শাহ

union-home-minister-amit-shah-launched-four-digital-platforms-mascots-pragati-and-vikash-for-the-census-across-the-country

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আজ নতুন দিল্লিতে ২০২৭ সালের জনগণনার (Census-2027) প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চারটি ডিজিটাল টুল বা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। একইসঙ্গে, এই জনগণনার অফিশিয়াল ম্যাসকট—‘প্রগতি’ (নারী) এবং ‘বিকাশ’ (পুরুষ) উন্মোচন করেছেন। ভারতের ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। ভারতের মতো দেশে এই অত্যাধুনিক পদ্ধতি সত্যই অভিনব। অমিত শাহ বলেন, “প্রযুক্তির এই ব্যবহার ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ম্যাসকট ‘প্রগতি’ ও ‘বিকাশ’ (Census-2027)

২০২৭ সালের জনগণনার (Census-2027) বন্ধুত্বপূর্ণ ও পরিচিত মুখ হিসেবে ‘প্রগতি’ (মহিলা গণনাকারী) এবং ‘বিকাশ’ (পুরুষ গণনাকারী) ম্যাসকট দুটিকে সামনে আনা হয়েছে। এই ম্যাসকটগুলি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্পে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এই ম্যাসকটগুলোর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনগণনার উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে নাগরিকদের বান্ধব হিসেবে প্রচারের কাজ করবে।

চারটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (C-DAC)-এর সহযোগিতায় তৈরি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি দেশের জনগণনা (Census-2027) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নির্ভুল করবে। প্ল্যাটফর্মগুলি হল-

হাউজলিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটর (HLBC)

স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করে এলাকা নির্ধারণের জন্য এটি ব্যবহার করা হবে।

এইচএলও (HLO) মোবাইল অ্যাপ

গণনাকারীদের জন্য একটি সুরক্ষিত অফলাইন মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে হাতে-কলমে কাগজের কাজ ছাড়াই সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও আপলোড করা যাবে। এটি ১৬টি আঞ্চলিক ভাষায় কাজ করবে।

সেলফ-এনিউমারেশন (SE) পোর্টাল

প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জন্য ‘স্ব-গণনা’র সুবিধা (Census-2027) দেওয়া হচ্ছে। এই পোর্টালে নাগরিকরা নিজেরাই তাদের পরিবারের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি অনন্য আইডি (SE ID) তৈরি হবে, যা পরে গণনাকারীকে দেখালে তিনি তথ্য যাচাই করে নেবেন।

সেনসাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CMMS)

এই কেন্দ্রীয় পোর্টালটি পুরো জনগণনা প্রক্রিয়া পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

জনগণনার সময়সূচী

২০২৭ সালের এই জনগণনা দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে:

  • প্রথম পর্যায় (এপ্রিল – সেপ্টেম্বর ২০২৬): এই পর্যায়ে ঘরবাড়ি তালিকাভুক্তকরণ এবং আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
  • দ্বিতীয় পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): এই পর্যায়ে জনসংখ্যা গণনা (Census-2027) করা হবে। তবে লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারবৃত দুর্গম এলাকাগুলোতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই এই গণনা সম্পন্ন হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতির সুবিধা গুলি কি কি?

  • ● এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল জনগণনা কার্যক্রম।
  • ● এতে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি গণনাকারী এবং আধিকারিক নিযুক্ত থাকবেন।
  • ● তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১৬টি ভাষা ব্যবহারের সুবিধা থাকবে।
  • ● এবারের জনগণনায় জাতিগত তথ্যও (Caste data) সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশ জুড়ে জনগণনায় এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিশেষভাবে কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশও করা হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share