Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

kishtwar encounter indian army search operation underway one soldier killed

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) কিশতওয়ার (Kishtwar encounter) জেলায় সিংহপোড়া এলাকায় সোন্নার গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সংঘর্ষের সময় ভারী গুলিবর্ষণে আরও সাতজন জওয়ান আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের তিনজন জঙ্গি (Jaish-e-Mohammed terrorists) গ্রেনেড ছুড়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

সেনা -জওয়ান নিহত

পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) দু’ থেকে তিনজন জঙ্গি ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে—এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুর নাগাদ সোন্নার গ্রামে অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। অপারেশনটির (Kishtwar encounter) নেতৃত্ব দেয় জম্মু-ভিত্তিক সেনা ইউনিট হোয়াইট নাইট কোর। গুলির লড়াই চলাকালীন আটজন জওয়ান স্প্লিন্টার ইনজুরিতে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সেস (SF)-এর এক প্যারাট্রুপার শহিদ হয়েছেন। সোমবার সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। শহিদ সেনার নাম হাবিলদার গজেন্দ্র সিং। সেনা কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাস দমন অভিযানের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কোর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, “হোয়াইট নাইট কোরের জিওসি এবং সমস্ত পদমর্যাদার সেনাকর্মীরা স্পেশাল ফোর্সেসের হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ১৮–১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যরাতে চলমান অপারেশন ‘ ত্রাসি–১’-এর আওতায় সিংপুরা এলাকায় সন্ত্রাস দমন অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা তাঁর অদম্য সাহস, বীরত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং এই গভীর শোকের মুহূর্তে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”

চলছে তল্লাশি অভিযান

কিশতওয়ার জেলার (Kishtwar encounter) ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি ও অভিযান চলছে। যাতে জঙ্গিরা কোনওভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। পুলিশ ও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, মানদ্রাল–সিংহপোড়া অঞ্চলের কাছে চাট্রুর সোন্নার গ্রামে ‘অপারেশন ত্রাশি–১’-এর অংশ হিসেবে চলছিল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুপুর নাগাদ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। জওয়ানরা জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের গুলির জবাব দিতে গিয়ে কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জওয়ানরা ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ দেখিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের কারণে রবিবার গভীর রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কিশতওয়ার জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসে বাড়ছে সংঘর্ষ

চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে জম্মু এলাকায় (Jammu Kashmir)। এর আগে ৭ জানুয়ারি এবং ১৩ জানুয়ারিও গুলির লড়াই হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কিশতওয়ারের চাট্রু এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল সেনা ও পুলিশ। অপারেশন সিঁদুরের পরেই নতুন করে ‘ঘাতক’ হয়ে উঠেছে জইশ সন্ত্রাসীরা। শ্রীনগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে হয়ে পড়েছে কৌশলী।

তীব্র শীতেও সতর্ক সেনা

সাধারণত ‘চিল্লাই কলান’-এ (অতিরিক্ত শীতের সময়) অভিযান কিছুটা কমে। তবে এবারে সেনা নতুন কৌশলে বরফে ঢাকা উঁচু এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। ধারণা, জঙ্গিরা সেখানেই ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে। থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রাতের অভিযান এবং বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অপারেশন চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আর সেনার ভূখণ্ড–পরিচিতি মিলিয়ে এখন কোনও এলাকাই নজরদারির বাইরে থাকছে না।” সেনা সূত্রে খবর, অভিযান (Kishtwar encounter) শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেনাদের বক্তব্য, অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলেও জঙ্গিদের পালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনা আধিকারিকদের মতে শান্তি বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share