মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত “সংঘ (RSS) যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত” (100 Years of Sangh Journey – New Horizons) শীর্ষক ব্যাখ্যানমালায় মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরএসএসের আদর্শগত ভিত্তি, শাখার ভূমিকা, হিন্দু পরিচয়ের ধারণা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর এই বক্তব্য শোনার জন্য উপস্থিত ছিলেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরুতে এই ধরনের ব্যাখানমালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘ শতবর্ষে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াই সংঘের কর্তব্য বলে জানিয়েছেন ভাগবত।
সঙ্ঘের কাজের অনন্যতা (RSS)
মুম্বইয়ে এদিনের ব্যাখান মালায় ভাগবত বলেন (Mohan Bhagwat), “সংঘের (RSS) কাজ বিশ্বে অনন্য। তথাগত বুদ্ধের পর ভারতের ইতিহাসে সংঘের মতো কাজ আর দেখা যায়নি। সংঘ কোনও আধাসামরিক বাহিনী বা রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার বিষয়। সংঘ কারওর বিরোধিতার জন্য বা ক্ষমতার জন্য গঠিত হয়নি, বরং দেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে।”
ইতিহাস ও সমাজ সংস্কার
ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এও হিউম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশদের একটি ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে, কিন্তু ভারতীয়রা একে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, আমাদের সমাজ কি সত্যিই একতাবদ্ধ? সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, কুসংস্কার এবং নিরক্ষরতা দূর না হওয়া পর্যন্ত জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। তাই এই লক্ষ্যে কাজ করাই আমাদের প্রধান কাজ।”
হেডগেওয়ার ও সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা
সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ার সম্পর্কে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হেডগেওয়ার ছিলেন একজন জন্মগত দেশপ্রেমিক। ১৯২৫ সালের বিজয়াদশমীর দিন তিনি হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সংঘের যাত্রার সূচনা করেন। সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা আজ দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি সেবা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই। অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন করেন। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় গ্রেফতার করেছিল।”
শাখার ধারণা ও ঐক্য
শাখা মানে দিনের মধ্যে এক ঘণ্টা সময় বের করে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ভগবদ্ ধ্বজের নীচে দাঁড়ানো। সেখানে জাতি, বর্ণ বা শিক্ষার কোনও পার্থক্য নেই। এটি শরীর, মন ও বুদ্ধিকে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম।
হিন্দু পরিচয় ও ভারত
ভাগবতের (Mohan Bhagwat) মতে, “ভারতে যাঁরা বাস করেন তাঁরা সবাই হিন্দু। এখানে ‘হিন্দু’ কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশেষণ। তিনি গুরু নানকের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ভারত হলো ‘ধর্ম-প্রাণ’ দেশ। ‘ধর্ম-নিরপেক্ষতা’র চেয়ে ‘পন্থ-নিরপেক্ষতা’ শব্দটি বেশি সঠিক।”
ভারত ও বিশ্বগুরু
ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ভারত কোনও ভৌগোলিক অভিব্যক্তি নয়, এটি একটি স্বভাব বা সংস্কৃতির নাম। ভারতের লক্ষ্য হল বিশ্বকে ধর্মের পথে চালিত করা এবং সেবা করা। ভারত কোনও ‘মহাশক্তি’ (Superpower) হয়ে অন্যদের ওপর দাদাগিরি করতে চায় না, বরং এটি ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাতে চায়।” ভাগবত তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও চরিত্র থেকে সারা বিশ্ব শিক্ষা নেবে। শিবাজি মহারাজের মতো মহান ব্যক্তিত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে। সংঘ (RSS) গত শত বর্ষ ব্যাপী এই কাজই করছে।”

Leave a Reply