Ramakrishna 597: “বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন!”

https://www.madhyom.com/ramakrishna-kathamrita-by-mahendranath-gupta-563rd-copy

৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

দশম পরিচ্ছেদ

১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
ঠাকুরের পরমহংস অবস্থা—চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসাদর্শন —
ভগবতীর রূপদর্শন—যেন বলছে, ‘লাগ্‌ ভেলকি’

বেলা ৩টা। ঠাকুরের (Ramakrishna) কাছে ২/১টি ভক্ত বসিয়া আছেন। তিনি ‘ডাক্তার কখন আসিবে’ আর ‘কটা বেজেছে’ বালকের ন্যায় অধৈর্য হইয়া বারবার জিজ্ঞাসা করিতেছেন। ডাক্তার আজ সন্ধ্যার পরে আসিবেন।

হঠাৎ ঠাকুরের বালকের ন্যায় অবস্থা হইয়াছে। বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন! ভাবাবিষ্ট বালকের ন্যায় হাসিতেছেন (Kathamrita)— আর-একরকম করিয়া কাপড় পরিতেছেন!

মণি প্রভৃতি অবাক্‌ হইয়া দেখিতেছেন।

কিয়ৎক্ষণ পরে ভাব উপশম হইল। ঠাকুরের খাবার সময় হইয়াছে, তিনি একটু সুজি খাইলেন।

মণির কাছে নিভৃতে অতি গুহ্যকথা বলিতেছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এতক্ষণ ভাবাবস্থায় কি দেখছিলাম জান?—তিন-চার ক্রোশ ব্যাপী সিওড়ে যাবার রাস্তার মাঠ। সেই মাঠে আমি একাকী!—সেই যে পনের-ষোল বছরের ছোকরার মতো পরমহংস বটতলায় দেখেছিলাম, আবার ঠিক সেইরকম দেখলাম!

“চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসা!—তারই ভিতর থেকে ১৩/১৪ বছরের একটি ছেলে উঠলো মুখটি দেখা যাচ্ছে! পূর্ণর রূপ। দুইজনেই দিগম্বর!—তারপর আনন্দে মাঠে দুইজনে দৌড়াদৌড়ি আর খেলা!

“দৌড়াদৌড়ি করে পূর্ণর জলতৃষ্ণা পেল (Kathamrita)। সে একটা পাত্রে করে জল খেলে। জল খেয়ে আমায় দিতে আসে। আমি বললাম, ‘ভাই, তোর এঁটো খেতে পারব না।’ তখন সে হাসতে হাসতে গিয়ে গ্লাসটি ধুয়ে আর-একগ্লাস জল এনে দিলে।”

‘ভয়ঙ্করা কালকামিনী’ — দেখাচ্ছেন, সব ভেলকি 

ঠাকুর আবার সমাধিস্থ। কিয়ৎক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হইয়া আবার মণির সহিত কথা কহিতেছেন —

“আবার অবস্থা বদলাচ্ছে! — প্রসাদ খাওয়া উঠে গেল! সত্য-মিথ্যা এক হয়ে যাচ্ছে! আবার কি দেখছিলাম জান? ঈশ্বরীয় রূপ! ভগবতী মূর্তি — পেটের ভিতর ছেলে — তাকে বার করে আবার গিলে ফেলছে! — ভিতরে যতটা যাচ্ছে, ততটা শূন্য হয়! আমায় দেখাচ্ছে যে, সব শূন্য!

“যেন বলছে, লাগ্‌! লাগ্‌! লাগ্‌ ভেলকি! লাগ!”

মণি ঠাকুরের কথা ভাবিতেছেন! ‘বাজিকরই সত্য আর সব মিথ্যা।’

সিদ্ধাই ভাল নয় — নিচু ঘরের সিদ্ধাই

শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, তখন পূর্ণকে আকর্ষণ কল্লাম, তা হল না কেন? এইতে একটু বিশ্বাস কমে যাচ্ছে!

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share