মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা পাচার মামলায় (coal scam case) গ্রেফতার হলেন আই-প্যাকের (I-PAC) অন্যতম ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল (Vinesh Chandel Arrested)। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ১০দিন আগে এই গ্রেফতারি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার ভিনেশ চান্ডেল। তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে ইডি। গত ২ এপ্রিল ভিনেশের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলেছিল। সেই সময় বেশ কিছু নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে ইডি সূত্রে দাবি।
কেন গ্রেফতার
ইডি সূত্রে খবর, ভোটের সঙ্গে এই গ্রেফতারির কোনও যোগ নেই। কয়লা পাচার মামলায় আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ইডি সূত্রে খবর, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে ভিনেশ চান্ডেলকে দিল্লিতে গ্রেফতার (I-PAC Director Arrested) করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল দিল্লিতে চান্ডেলের বাড়ি ছাড়াও, বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংয়ের বাসভবনে তল্লাশি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগেই আইপ্য়াকের ২ কর্তা প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লির অফিসে তলব করে নোটিস দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিলের পরে হাজিরা দিতে চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে যান তাঁরা। ১৭ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি রয়েছে। ডির তরফে দাবি, ভিনেশের বাড়িতে তল্লাশির পরও তাঁদের তদন্ত চলছিল। তদন্তকারীদের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এই গ্রেফতারি বলে দাবি কেন্দ্রীয় এজেন্সির। ইডি সূত্রে খবর, আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টরের উত্তরে সন্তুষ্ট না হওয়ার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কে এই ভিনেশ চান্ডেল
ভিনেশ চান্ডেল ভোটকুশলী হিসেবে কর্মরত। তিনি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক, এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। প্রশান্ত কিশোর, প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিং এক সঙ্গে আই-প্যাক তৈরি করেন। এই মুহূর্তে চান্ডেল আইপ্যাকের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। ইডি কর্তারা জানিয়েছেন, ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর বিধান অনুযায়ী দিল্লিতে চান্ডেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গভীর রাতেই তাঁকে দিল্লির পাটিয়ালা কোর্টের বিচারকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলে শুনানি। ভোর পর্যন্ত শুনানি হয়। ভিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, বাংলায় কয়লা পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা ‘হাওয়ালা’র মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে।

Leave a Reply