মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট (NEET-UG 2026) পুনর্পরীক্ষার ঠিক আগে বড়সড় ডিজিটাল স্ট্রাইক করল কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতে দেশজুড়ে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (Ban) করা হল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ (Telegram)। জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act, 2000) ধারা ৬৯এ (Section 69A)-এর অধীনে এই জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যা নিট পুনর্পরীক্ষার দিন এবং তার ঠিক পরের সময়টুকুকে কভার করবে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা? সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য (NEET-UG 2026)
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে একাধিক সুসংগঠিত চিটিং র্যাকেট এবং সাইবার প্রতারক চক্র টেলিগ্রামকে (Telegram) হাতিয়ার করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফাঁদে ফেলছিল। গোয়েন্দা ও সাইবার ক্রাইম শাখার নজরে আসে যে, টেলিগ্রামে— ‘‘PAPER LEAKED NEET’’, ‘‘Re-NEET 2026’’, ‘‘Private Mafia’’ এবং ‘‘REE NEET MAFIAA’’— এর মতো নামে অসংখ্য ভুয়ো চ্যানেল চালানো হচ্ছিল। এই চ্যানেলগুলির মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে তাদের কাছে পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র রয়েছে। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছিল। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NEET-UG 2026) স্পষ্ট করে জানিয়েছে— ‘‘সুরক্ষিত পরীক্ষা ব্যবস্থার বাইরে কোনও প্রশ্নপত্র কোথাও উপলব্ধ নেই। যারা এই ধরণের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তারা প্রত্যেকেই বড়সড় জালিয়াতি চক্রের অংশ।’’
কীভাবে তৈরি হত জাল ‘পেপার লিক’-এর প্রমাণ?
টেলিগ্রাম (Telegram) অ্যাপটি পুরোপুরি ব্যান করার পাশাপাশি সরকার আরও একটি কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিটিং’ (Message-editing) ফিচারটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তদন্তে নেমে সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানতে পেরেছেন, এই জালিয়াতি চক্রগুলি টেলিগ্রামের একটি বিশেষ টেকনিক্যাল লুপহোল (ত্রুটি) ব্যবহার করছিল।
- ১> পরীক্ষার আগে: প্রতারকরা চ্যানেলে একটি সাধারণ মেসেজ বা সাধারণ কোনো পিডিএফ পোস্ট করে রাখত।
- ২> পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর: যখন আসল পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত, তখন তারা পুরোনো মেসেজটি এডিট করে সেখানে আসল প্রশ্নপত্রটি ঢুকিয়ে দিত।
- ৩> ফলাফল: যেহেতু মেসেজ এডিট করলেও তার মূল ‘টাইমস্ট্যাম্প’ (কোন সময়ে পোস্ট করা হয়েছিল) অপরিবর্তিত থাকে, তাই স্ক্রিনশট দেখে মনে হত পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই বুঝি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে! এইভাবে বাজারে কৃত্রিম ‘‘প্রশ্ন ফাঁসের’’ গুজব ছড়িয়ে কোটি কোটি টাকার খেলা চলছিল। ৩০ জুন পর্যন্ত এডিটিং ফিচার বন্ধ করে এই জালিয়াতির রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হল।
দেশজুড়ে বড়সড় অ্যাকশন
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে মিলে এই চক্রগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ সিটি সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ (Telegram) এমন একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পেয়েছে যারা ৮টি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১.৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা চালিয়েছে। গত ৯ জুন বিহার পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOU)-ও এই বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে একটি অ্যাডভাইজরি জারি করেছিল।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র দুঃখপ্রকাশ ও পরীক্ষার্থীদের বার্তা
হঠাৎ করে টেলিগ্রাম বন্ধ হওয়ায় দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ ব্যবহারকারী সাময়িক সমস্যায় পড়বেন স্বীকার করে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। তবে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ (NEET-UG 2026) নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী কোনও সমস্যা ছাড়াই তাদের অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন। কোনও পরীক্ষার্থী যদি ইন্টারনেটে এমন কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি বা জালিয়াতির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ (1930)-এ যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply