মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস (BRICS) সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (Supreme National Security Council) উপ-সচিব গাদির নেজামি সোমবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্স (X)-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ২২-২৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেজামি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা
বিদেশমন্ত্রক (MEA) সূত্রে খবর, ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৈঠকে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা ‘বর্তমান বিশ্বের অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ (Non-traditional Security Challenges) বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন। বিদেশমন্ত্রকের মতে, বৈঠকে দ্রুত পরিবর্তনশীল জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নতুন প্রযুক্তির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সাইবার ও তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক হুমকির মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে ব্রিকসের যৌথ কর্মগোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফলও পর্যালোচনা করা হবে।
কারা কারা রয়েছে এই জোটে
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ভারত চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ভারত এই দায়িত্ব পালন করেছিল। এবারে ভারতীয় সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য “ বিল্ডিং ফর রেসিলেন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি ” (Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability), যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৫ সালের রিও শীর্ষ সম্মেলনে উত্থাপিত ‘মানবকেন্দ্রিক ও মানবতার অগ্রাধিকার’ দর্শনের প্রতিফলন বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ব্রিকস জোটে ১১টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ রয়েছে— ব্রাজিল (Brazil), রাশিয়া (Russia), ভারত (India), চিন (China), দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), মিশর (Egypt), ইথিওপিয়া (Ethiopia), ইরান (Iran), ইউনাইটেড আরব এমিরেটস (United Arab Emirates), সৌদি আরব (Saudi Arabia) এবং ইন্দোনেশিয়া (Indonesia)।
কোন কোন বিষয়ে সহযোগিতা
ব্রিকসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জোটটির কার্যক্রম এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনীতি ও অর্থায়ন, এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে ব্রিকসের কার্যপরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, টেলিযোগাযোগ, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-সংক্রান্ত বিষয়েও ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে।

Leave a Reply