Bastar Victims: “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে, আর সেই দিন চাই না” চিদম্বরমকে জবাব মাও-হিংসার শিকার পরিবারের

bastar victims hit back at congress leader p Chidambaram's proud to be dimagi naxal post

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে এবার সরব হলেন ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশাল হিংসার শিকার পরিবারগুলি। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লিতে বসে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কারণ বস্তারের বহু মানুষ নকশাল হামলায় তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত বস্তারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠন ‘বস্তার শান্তি সমিতি’ মঙ্গলবার রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করে চিদম্বরমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তাঁরা জানান, নকশাল হামলা, অ্যামবুশ এবং আইইডি বিস্ফোরণে কেউ পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন, কেউ আবার নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন।

বস্তারে এসে দেখুন!

কাঁকেরের বাসিন্দা কামেশ্বর কুমার সিনহার বাবা ১৮ আগস্ট নকশালদের আইইডি বিস্ফোরণে নিহত হন। চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ সংক্রান্ত পোস্টে ক্ষুব্ধ কামেশ্বর বলেন, “আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। বস্তারে এসে দেখুন, এখানে কেউ এমন মন্তব্য করছে না। মানুষ আক্রান্ত পরিবার এবং জওয়ানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজধানী থেকে এমন কথা শুনে আমি খুবই ব্যথিত। তাই দিল্লিতে এসে তাঁকে প্রশ্ন করতে চেয়েছি, কীভাবে তিনি এমন কথা বলতে পারেন।”

বহু মহিলা স্বামীকে হারিয়েছেন

বস্তারের কাঁকেরের বাসিন্দা আরতিও চিদম্বরমের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর স্বামী ছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর এসটিএফ জওয়ান। সুকমায় নকশালদের অ্যামবুশে তিনি নিহত হন। আরতি বলেন, “আমার স্বামী নিরাপত্তাবাহিনীতে ছিলেন। সুকমায় নকশালদের হামলায় তিনি নিহত হন। বস্তারে আমার মতো বহু মহিলা রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন বস্তার শান্তির পথে এগোচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক নেতারা এমন কথা বলছেন। আমরা চাই না অতীতের পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক।”

৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে বস্তার

নকশাল হামলায় দুই পা হারানো এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া কাঁকেরের বাসিন্দা তরুণ কুমারও চিদম্বরমের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মানসিকতা বস্তারকে ফের কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। তরুণ বলেন, “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আজ যখন বস্তার উন্নতির পথে এগোচ্ছে, তখন কি তাকে আবার সেই নরকের দিকে ঠেলে দিতে চান? এই মানসিকতা বস্তারকে ৪০ বছর পিছিয়ে দেবে। আবার হিংসা, গুলির লড়াই শুরু হবে এবং জওয়ানরা প্রাণ হারাবেন।” বস্তারের আর এক নকশাল-হিংসার শিকার বাসিন্দা সিয়ারাম বলেন, শান্তির পথে এগিয়ে চলা বস্তারের মানুষ এমন মন্তব্যে ব্যথিত। তাঁর কথায়, “আমরা চেয়েছিলাম তিনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তিনি তাঁদের সমর্থনে কথা বলছেন। ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য আমরা পছন্দ করি না। তাই প্রতিবাদ জানাতেই দিল্লিতে এসেছি।”

কোন প্রসঙ্গে এই মত

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে নেওয়া নকশালদের পরাস্ত করা হয়েছে, তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ‘দিমাগি নকশাল’ রয়েছে, যাদের “চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন” করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলির একাংশ এর সমালোচনা করে। এরপর চিদম্বরম সমাজমাধ্যমে লেখেন, “দিমাগি নকশাল হিসেবে আমি গর্বিত!” কংগ্রেস এবং চিদম্বরমের বক্তব্য, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি রাজনৈতিক অপমানসূচক শব্দ হিসেবে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তাঁদের মতে, এটি ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতোই একটি রাজনৈতিক তকমা।

কী বলেছিলেন মোদি

গত শনিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরে ভাষণে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সাফল্যের কথা জানিয়ে মোদী বলেছিলেন, ‘জঙ্গলে অস্ত্র হাতে লড়াই করা মাওবাদীদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও কিছু দিমাগি নকশাল রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।’ ‘দিমাগি নকশাল’-রা নানা ভাবে ভুল বুঝিয়ে সমাজে সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।মাওবাদী চিন্তাধারার মানুষজন জনজীবনে তো বটেই, এমনকী বিভিন্ন সরকারি কমিটিতেও দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘সেই চিন্তাধারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগেও প্রভাব ফেলেছিল।’ এখানেই থামেননি তিনি। ‘দিমাগি নকশালরা’ এখনও সক্রিয় বলে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘তারা এখন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। হিংসার রাস্তা খুঁজছে।’

কিরেন রিজিজুর দাবি

বিরোধীদের একাংশের দাবি, সমালোচকদের নিশানা করতে আগেও নানা তকমা ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি নেতারা। রিজিজুর দাবি, বিরোধীদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনটি শ্রেণির কথা লিখেছেন তিনি। প্রথমত, যাঁরা মাওবাদীদের সমর্থন করার পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানকে মানেন না। দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান এবং ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করেন। তৃতীয়ত, যাঁরা ‘চিকেনস নেক’ কেটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেন। রিজেজুর কথায়, ‘তাঁরাই দিমাগি নকশাল।’

কী বলেছিলেন চিদাম্বরম

তবে বস্তারের নকশাল-হিংসার শিকার পরিবারগুলির বক্তব্য, রাজধানী থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করার আগে তাঁদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবং নকশাল হামলায় প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের অভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় রাখা উচিত। এদিকে, ‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্রমশ একটি “মাওবাদী দলে” পরিণত হচ্ছে। ফলে চিদম্বরমের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share