মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম (Onion Price Surge) নিয়ন্ত্রণে এবার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দিল্লিতে ভর্তুকি দিয়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে দিল্লিতে খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকারি মজুত থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি (Onion Price Surge)
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে প্রথম বিশেষ রেল রেক ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বৃহস্পতিবার ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বলে জানিয়েছেন ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের এক প্রবীণ আধিকারিক।
২০২৬ সালের জন্য দেশের বিভিন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রাখা হয়েছে। সেই মজুত থেকেই বাজারে পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নাফেড, এনসিসিএফ এবং কেন্দ্রীয় ভান্ডারের মাধ্যমে খুচরো বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
এনসিসিএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনিস জোসেফ চন্দ্র বুধবার সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “আগামীকাল দিল্লিতে বিক্রি শুরু হবে। এরপর সপ্তাহান্তের মধ্যে এই পরিষেবা এনসিআর অঞ্চলেও বাড়ানো হবে।”
এনসিসিএফের কাছে প্রায় ৬২ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ৪০০ টন পেঁয়াজ বিশেষ ‘কন্দ এক্সপ্রেসে’র মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ট্রেনটি এদিনই দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেও বলে খবর।
এনসিসিএফ দিল্লির ১০০টি কেন্দ্রীয় ভান্ডারের দোকানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। মাদার ডেয়ারির ৩০০টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি গাড়ি নামানো হবে। শনিবার থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৪০ (Onion Price Surge)। চন্দ্র জানান, রেলপথে আসা পেঁয়াজের একটি অংশ চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা, বারাণসী এবং অন্যান্য শহরেও বিক্রি করা হবে।
পেঁয়াজের বাফার মজুত
নাফেডের কাছেও ৫৫ হাজার টনের কিছু কম পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তারাও দিল্লির পাশাপাশি কোচি, গুয়াহাটি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ রেল রেকের মাধ্যমে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে। এই বিশেষ রেল পরিষেবার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কন্দ এক্সপ্রেস’।
প্রথম বিশেষ রেল রেকটিতে ৮০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। সেটি ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি চেন্নাই, এরনাকুলাম, মাদুরাই এবং গুয়াহাটিতেও বিশেষ রেকের মাধ্যমে পেঁয়াজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ওই রুটগুলির জন্য এখনও বুকিং করা হয়নি।
এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ
গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৫ জুলাই সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২৫ অগাস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ৭২ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশেরও বেশি।
এক বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত বছর একই সময়ে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৬৭ পয়সা। সেই তুলনায় বর্তমানে দাম বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ (Onion Price Surge)।
বিভিন্ন বড় শহরে দাম আরও বেশি। বুধবার চেন্নাই এবং কলকাতায় পেঁয়াজের খুচরো দর ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা। এক বছর আগে এই দুই শহরে দাম ছিল যথাক্রমে ৩৫ টাকা এবং ৩২ টাকা। দিল্লিতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা কেজি, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩৩ টাকা। মুম্বইয়ে দাম ৪৮ টাকা, এক বছর আগেও যা ছিল ৩২ টাকা। রাঁচিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা, গত বছর ছিল ২৫ টাকা।
পাইকারি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম
খুচরো বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম দ্রুত বেড়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অগাস্ট পেঁয়াজের সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৬ টাকা ৭৩ পয়সা। এক বছর আগে এই দাম ছিল ২২ টাকা ৫৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পাইকারি দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।
শুধু গত এক মাসেই পাইকারি দামে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজের দামে সাধারণত যে মরশুমি বৃদ্ধি দেখা যায়, এবারও তার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং মানুষের ভোগের ধরন বদলে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ (Onion Price Surge)।
চাহিদা মেটাতে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই, দাবি কেন্দ্রের
দাম বাড়লেও আগামী কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ কৃষিবর্ষে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টন। আগের বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টন।
অর্থাৎ উৎপাদন মোটের উপর আগের বছরের কাছাকাছিই রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত ও সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেই আশা (Onion Price Surge) কেন্দ্রের।

Leave a Reply