Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা

asian games 2026 india stuns china to win women’s compound archery team gold secure gold in riley race

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টে সোনা জিতে চমক দেখাল ভারত। বুধবার ফাইনালে চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয় করল ভারতের মহিলা দল। শেষ তিনটি তীরেই পরপর তিনটি ‘১০’ মেরে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষ করেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ। এই জয়ের ফলে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে। সব মিলিয়ে ভারতের পদক সংখ্যা এখন ৫৩—সোনা ৭, রুপো ২১ এবং ব্রোঞ্জ ২৫। ভারতের ২৩৮ স্কোরটি ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গড়া বিশ্বরেকর্ডের সমান। অর্থাৎ এদিন ফাইনালে ভারতের পারফরম্যান্স বিশ্বরেকর্ডের স্কোর ছুঁয়ে ফেলেছে। জ্যোতি সুরেখার জন্য এটি এশিয়ান গেমসে চতুর্থ সোনা। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই সোনা জয়ের স্বাদ পেলেন চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ।

শুরু থেকেই ভারতের দাপট

ফাইনালের শুরু থেকেই চিনের উপর চাপ তৈরি করে ভারত। প্রথম তিনটি তীরেই তিনটি ‘১০’ মারেন জ্যোতি, চিকিথা ও পৃথিকা। চিনের তিনটি শট ছিল ‘৯’। ফলে প্রথম থেকেই এগিয়ে যায় ভারত। পরের সেটেও তিনটি নিখুঁত ‘১০’ আসে ভারতের কাছ থেকে। চিনের একটি শট রিভিউয়ের পর ‘১০’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় প্রথম সেট শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৬০-৫৮। পরের সেটে ভারত একটি পয়েন্ট হারালেও ৮৯-৮৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এরপর আবার তিনটি ‘১০’ মেরে হাফটাইমে ভারত লিড বাড়িয়ে নেয় ১১৯-১১৬। দ্বিতীয়ার্ধে চিন নিখুঁত একটি সেট দিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। ভারতও পাল্টা তিনটি ‘১০’ মেরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। আরও একটি রিভিউয়ের পর চিনের স্কোর বাড়লেও ভারত তখনও ১৭৮-১৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে।

শেষদিকে আর কোনও সুযোগ দেয়নি ভারত

ফাইনালের নির্ণায়ক মুহূর্তে চিন একটি ‘১০’ এবং দুটি ‘৯’ মারে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ২০৮-২০৪-এ। এরপর সোনা নিশ্চিত করতে শেষ তিনটি তীরই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের তিন সদস্য। চিকিথা, পৃথিকা এবং জ্যোতি—তিনজনই শেষ শটে ‘১০’ মারেন। ফলে ভারত ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং বিশ্বরেকর্ডের স্কোর স্পর্শ করে।

সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াই

ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল ভারতকে। ভারত ২৩৫-২৩৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শুরুতে দুই দলই ৫৯-৫৯ সমতায় ছিল। এরপর ভারত এগিয়ে গিয়ে হাফটাইমে ১১৮-১১৫ লিড নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরপর নিখুঁত সেট মেরে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া। একসময় স্কোর হয়ে যায় ১৭৫-১৭৫। শেষদিকে ভারত আবার সামান্য ব্যবধান তৈরি করে এবং শেষ সেটের আগে ২০৫-২০৪-এ এগিয়ে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ২৩৩-এ থামার পর চিকিথা ও পৃথিকা ১০ করে এবং জ্যোতি ৯ মারেন। ভারত পৌঁছে যায় ২৩৫-এ এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। তবে ফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে আর কোনও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়নি ভারতীয় দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে শেষ তিনটি নিখুঁত ‘১০’-এ সোনা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ল জ্যোতি-চিকিথা-পৃথিকার দল।

রিলে রেসে-ও সোনা ভারতের মেয়েদের

নীরু ধান্ডার পর এবার সোনা এল ৪*৪০০ রিলে রেসে। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) শেষ দিনে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম সোনা জিতল ভারত। বিথ্যা রামরাজ, কিরণ, প্রাচী এবং মাচেত্তিরা পোভাম্মার ভারতীয় মহিলা রিলে দল দেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশকে সোনা এনে দিলেন। তারা ৩:২৯.৬৯-এ দৌড় শেষ করে পোডিয়ামে শীর্ষে জায়গা করে নেন। বাহারিন ৩:৩০.২১-এ শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তৃতীয় স্থানে শেষ করে চিন। ৪০০ মিটার হার্ডেলেও রামরাজ পদক জিতেছিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ব্রোঞ্জ। তবে এবার একেবারে সোনা জিতলেন তিনি।

রিলে রেসে ব্রোঞ্জ ছেলেদের

মহিলারা ৪x৪০০ মিটার রিলেতে সোনা দিলেও পুরুষরা এবার ব্যর্থ। হিটের মতো পারফরম্যান্স করতে পারলেন না ভারতীয়েরা। ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতকে। মরসুমের সেরা সময়ের ধারে কাছেও দৌড় শেষ করতে পারলেন না ধর্মবীর চৌধরী, মনু থেক্কিনিল, জয় কুমার, বিশাল থেনারসু। হিটে ৩ মিনিট ০.৩২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করা ভারতীয় দল ফাইনালে সময় নিলেন ৩ মিনিট ১.৬১ সেকেন্ড। হিটের সময়ে দৌড় শেষ করতে পারলেও সোনা জিতত ভারত।

মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলেতেও চমক

নাগোয়ায় চমক দেখাল ভারতের মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলে দল। হরিতা ভদ্র, অনিমেষ কুজুর, স্নেহা সত্যনারায়ণ এবং গুরবিন্দর সিংহ দৌড় শেষ করলেন ৪১.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ জিতলেন। মরসুমের সেরা সময় করলেন তাঁরা ফাইনালে। এই ইভেন্ট থেকে পদকের তেমন আশা অবশ্য ছিল না।

নজির গড়লেন গুলবীর

নজির গড়লেন গুলবীর। ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতলেন ১৩ মিনিট ৩২.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। এর আগে ১৫০০ মিটার এবং ১০ মিটারে রুপো জিতেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের গেমসে উষা পদক জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাঁর পর গুলবীরই হলেন ভারতের প্রথম অ্যাথলিট যিনি একটি গেমস থেকে অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত পদক পেলেন। উষা অবশ্য সে বার চারটি পদক জেতেন। ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন। সঙ্গে ১০০ মিটারে জেতেন রুপো। এ ছাড়াও সোনাজয়ী ৪x৪০০ মিটার রিলে দলেও ছিলেন তিনি।

মেয়েদের হাই জাম্পেও পদক

পদক এসেছে মেয়েদের হাই জাম্পেও। ১.৮৪ মিটার উচ্চতা টপকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন পূজা সিংহ। এ বারের গেমসে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের আর কোনও ইভেন্ট নেই। বক্সিংয়ে এল প্রথম পদক। ছেলেদের ৯০+ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেলেন নরেন্দর বেরওয়াল। তিনি সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের আইবেক ওরালবের কাছে ০-৫ ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন। তবে মেয়েদের ৬৫ কেজি বিভাগে পারভীন হুডা এবং ছেলেদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল ফাইনালে উঠেছেন। তাঁদের রুপোর পদক নিশ্চিত। মোট ছ’জন বক্সার পদক নিশ্চিত করেছেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে ছেলেদের ভলিবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। প্রথম দু’সেট হারার পরও ম্যাচ বের করেছে ভারতীয় দল। তা-ও দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে। টান টান ম্যাচে ভারতীয় দল জিতেছে ২৬-২৮, ২৫-২৭, ২৫-২৩, ২৫-২০, ২৪-২২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

পদক জয়ের লক্ষ্যে

এছাড়াও মেয়েদের স্কোয়াশে পদক নিশ্চিত করল ভারত। মেয়েদের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন তানভি খান্না এবং অনাহত সিং। ইতিমধ্যেই পদক তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে উঠে এসেছে ভারত। এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ ভারতীয় কুস্তিগীর, বক্সার এবং তিরন্দাজদের ওপর। ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেয়েদের হকি দল। তারকা জুডোকা অশ্মিতা দেবও বুধবার নামবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জয়ী নীরু ধান্ডাও এদিন মিক্সড টিম ইভেন্টে নামবে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share