মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) মুসলিম-প্রধান এলাকা পিরোজপুর জেলার দুমড়িতলা গ্রামে একটি হিন্দু গ্রামে অন্তত পাঁচটি বাড়ি অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা ঘটেছে গত ২৮ ডিসেম্বর। উল্লেখ্য এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ২৯ বছর বয়সী গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার কারণে মিথ্যা অভিযোগে একদল মুসলিম উন্মত্ত জনতা প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করেছিল এবং এরপর তাঁর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হিন্দু নির্যাতনের (Attacks On Minorities Hindu) ঘটনায় ভারতেও ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় একাধিক হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে।
কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় (Bangladesh)
স্থানীয় (Bangladesh) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কট্টরপন্থী হামলাকারীরা (Attacks On Minorities Hindu) ঘরের একটি ঘরে কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত সাহা পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই ঘটনা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হন নি। আগুন পরিকল্পনা করেই লাগানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, ভোরের দিকে আগুন দেখতে পেয়ে বুঝতে পারা যায় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে তারা ঘরের ভেতরই আটকে পড়েন। পরে দুটি পরিবারের মোট আটজন সদস্য টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া কেটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ঘরবাড়ি ও সমস্ত আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকি আগুনে বাড়ির পোষা প্রাণীরাও মারা গেছে।
এই ঘটনাস্থলটি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন একাধিক ঘরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি
হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ (Bangladesh) মাইনরিটিজ (HRCBM) জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭১টি ঘটনার তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনা চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিলেটসহ ৩০টিরও বেশি জেলায় নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনার বিস্তার ও পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধর্মীয় অভিযোগকে ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা ইউনূসের
প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দক্ষিণ এশীয় দেশটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ক্রমশ ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Bangladesh) ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশটি একটি অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে উগ্র ইসলামপন্থীদের উত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার মুছে ফেলার প্রচেষ্টা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তানের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ এই পাকিস্তানই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক নির্যাতন (Attacks On Minorities Hindu) ও হত্যালীলা চালিয়েছিল।
চরম হিন্দু নির্যাতন!
বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিসরে নিয়মিত ভারতবিরোধী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, যার মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কিত উসকানিমূলক মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যের সূত্রপাত হয় মুহাম্মদ ইউনূসের ওই অঞ্চল নিয়ে করা এক মন্তব্য থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠী এই ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আড়ালে কট্টর মৌলবাদীরা রাজত্ব করছে।
বাংলাদেশ যখন ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিচ্ছিন্ন হলেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী শহরে আরেক হিন্দু ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটকে উন্মত্ত জনতা হত্যা করে। তবে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর মামলা ছিল এবং ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। আসলে বাংলাদেশে এখন হিংস্রতা (Attacks On Minorities Hindu) চরম সীমায়।

Leave a Reply