CM Vijayan: কান্নুরে দলিত ছাত্র জিতিন রাজের মৃত্যু, জাতিবিদ্বেষ ও গায়ের রঙ নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ পরিবারের; মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন!

death-of-dalit-student-jithin-raj-in-kannur-family-alleges-taunts-based-on-caste-and-skin-color-questions-raised-over-chief-minister-vijayans-silence

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের (Kerala) কান্নুর জেলায় এক ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র জিতিন রাজের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই মৃত্যুর পিছনে জাতিগত বৈষম্য, গায়ের রঙ নিয়ে অপমান এবং শিক্ষকদের দ্বারা মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে ছাত্রের পরিবার। তবে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (CM Vijayan) এবং একাধিক প্রভাবশালী দলিত সংগঠনের ‘নীরবতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম রাজ্যে এই ভাবে দলিত ছাত্রের নির্যাতনের বিরুদ্ধে চরম সমালোচনার ঝড় উঠেছে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনা কি ঘটেছিল তার প্রেক্ষাপট (CM Vijayan)?

তিরুবনন্তপুরমের (Kerala) বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী জিতিন রাজ কান্নুরের আঞ্জরাকান্দি ডেন্টাল কলেজের বিডিএস (BDS) ছাত্র ছিলেন। গত ১০ এপ্রিল কলেজের একটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করলেও, ছাত্রের পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ আত্মহত্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের ফল। অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (CM Vijayan) চুপ করে বসে আছেন।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ

জিতিনের (Kerala) পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কলেজের কিছু শিক্ষক তাঁকে ধারাবাহিকভাবে মানসিক হেনস্তা করতেন। পরিবারের অভিযোগ কয়েকটি ধাপে ধাপে ডাক্তার পড়ুয়াকে নিগ্রহ করা হয়।

জাতিবিদ্বেষ ও গায়ের রঙ

জিতিন দলিত পরিবারের সন্তান হওয়ায় এবং তাঁর গায়ের রঙ নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাসে প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ করতেন। এমনকি তার শারীরিক গঠন নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। অভিযোগ উঠেছে যে, জনৈক বিভাগীয় প্রধান (HOD) তাকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার এবং নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন।

ভাইরাল অডিও ক্লিপ

মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ওই ছাত্রকে তাঁর ওপর হওয়া অবিচার এবং শিক্ষকদের অপমানের কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। অডিওতে জিতিন দাবি করেছেন যে, তাকে ক্লাসে সবার সামনে অপমান করা হতো এবং তাঁর মায়ের নামেও কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় দুই শিক্ষককে কলেজ কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। তবে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে কেরালা সরকারের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নীরবতা এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। দলিত অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলোর একটি বড় অংশ এই ইস্যুতে কেন শান্ত রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং ওই অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলে এই ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্যের এক কালো দিক উন্মোচিত করেছে। সম্পূর্ণ মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন (CM Vijayan) সম্পূর্ণ ভাবে নিষ্ক্রিয়।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share