T20 World Cup 2026: একটানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে দু’কদম দূরে ভারত, বৃহস্পতির সন্ধ্যায় বৃষ্টি হলে কী হবে?

t20 world cup 2026 india vs namibia match is the practice ground before pakistan

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলকে যদি একটানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) জিততে হয়, তবে আরও ২ টি চ্যালেঞ্জ পার করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম চ্যালেঞ্জ আসবে ৫ই মার্চ, যখন সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ভারত ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হবে। এই নিয়ে পর পর তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি দু’দল। এখনও পর্যন্ত দু’দল এক বার করে জিতেছে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সূর্যকুমার যাদবদের বিরুদ্ধে নামার আগে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক জানিয়ে দিলেন, তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধেই খেলতে চেয়েছিলেন।

ভারতের সমর্থন বেশি

ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে ইংরেজ অধিনায়ক ব্রুক বলেন, “আমরা তৈরি। শুনছি দলের অনেকেই বলছে, ওরা ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চাইছিল। সেমিফাইনালে ভারতকেই চাইছিলাম আমরা। দারুণ একটা ম্যাচ হবে। দু’দলের উপরেই প্রচণ্ড চাপ থাকবে।” ব্রুক জানেন, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খুব একটা সমর্থন তিনি পাবেন না। তার জন্য তৈরিও রয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “ভারত অবশ্যই অনেক বেশি সমর্থন পাবে। বিদেশের মাঠেই ওরা এত সমর্থন পায়, তো দেশের মাটিতে তো পাবেই। আমরা জানি, আমাদের হয়ে চিৎকার করার জন্য খুব বেশি লোক থাকবে না। তার মধ্যেই আমাদের ভাল খেলতে হবে। তার জন্য আমরা তৈরি।”

ব্যাটারদের ব্যর্থতা

টিম ইন্ডিয়ার সবথেকে বড় দুর্বলতা হল ওপেনিং পার্টনারশিপ। এই টুর্নামেন্টে প্রথম দিকে অভিষেক এবং ঈশানের বাঁ-হাতি কম্বিনেশনে ভারতীয় ওপেনিং জুটি দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু, বিপক্ষ দলের অফ-স্পিনাররা এই জুটি হেলায় ভেঙে দিয়েছেন। এরপর এন্ট্রি নেন সঞ্জু স্য়ামসন। তাও পাওয়ারপ্লে চলাকালীন টিম ইন্ডিয়া নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে। গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের ওপেনিং জুটি এখনও পর্যন্ত শুরুটা ভাল করতে পারেনি। টিম ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় দুর্বলতা হল পাওয়ার প্লে চলাকালীন উইকেটের পতন। পাওয়ার প্লে’র মধ্যে কখনও একটি, কখনও আবার তিনটে উইকেটও হারিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, তাহলে ইংল্যান্ড চাপ তৈরি করে ভারতকে অবশ্যই ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। এই পরিস্থিতিতে পাওয়ার প্লে’তে একটা ভাল সূচনা টিম ইন্ডিয়াকে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেবে।

খারাপ ফিল্ডিং

এছাড়া খারাপ ফিল্ডিং নিয়ে তো ইতিমধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দল যথেষ্ট খারাপ ফিল্ডিং করছে। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে টিম ইন্ডিয়া অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলে, তাহলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ফিল্ডাররা এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৩ ক্যাচ ফসকেছে। বাকি দলগুলোর তুলনায় এটাই সর্বাধিক। সূর্য অ্যান্ড কোম্পানির ক্যাচিং দক্ষতা মাত্র ৭১.৭ শতাংশ। সুপার এইট পর্বে যা একেবারেই খারাপ। অভিষেক শর্মা এবং সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটিং ফর্মও টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম বড় দুর্বলতা। এখনও পর্যন্ত ৬ ম্য়াচে অভিষেক এবং সূর্যের ব্যাট থেকে মাত্র একটি করে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এসেছে। দুজনেই দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার কারণে টিম ইন্ডিয়ার মিডল অর্ডারে দ্বিগুণ চাপ তৈরি হচ্ছে। গত ম্য়াচে অভিষেক শর্মা মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম তিনটে ম্য়াচে তো তিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

বোলিং ডিপার্টমেন্টেও দুর্বলতা

ভারতীয় বোলিং ডিপার্টমেন্টেও দুর্বলতা নজরে এসেছে। এই দলটা জসপ্রীত বুমরাহের উপরে সিংহভাগ নির্ভরশীল। লিগ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী যথেষ্ট ভাল পারফরম্য়ান্স করেছিলেন। কিন্তু, সুপার এইট পর্বে তাঁর পরিসংখ্যান খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর্শদীপ শুরুর দিকে তাঁর সুইং ডেলিভারিতে ব্যাটারদের পরাস্ত করলেও, ডেথ ওভারে যথেষ্ট রান দিয়ে ফেলেন তিনি। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল এবং শিবম দুবের বোলিংয়ে কোনও নির্ভরতা দেখতে পাওয়া যায়নি।

ভারতের চিন্তায় কারা

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এই মুহূর্তে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। সুপার এইট পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন। চলতি টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে, গড় স্ট্রাইক রেট ১৬১ এবং ২২৮ রান করেছেন তিনি। কার্যত, একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন ব্রুক। ওপেনার ফিল সল্ট পাওয়ারপ্লে-তে বোলারদের ওপর চড়াও হতে ওস্তাদ। এই টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে মাত্র ১২৫ রান করলেও, তিনি ভয়ঙ্কর ব্যাটার। সল্ট ভালো শুরু করলে ইংল্যান্ডের বড় স্কোর করা সহজ হয়ে যাবে। ওয়াংখেড়ের ছোট মাঠে তাঁকে দ্রুত থামানো জরুরি। লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতা ভালোই জানেন। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। ইকোনমি রেট ৭.৫০। ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে, তিনি ১৪ জন ভারতীয় ব্যাটারকে আউট করেছেন। রশিদের স্পিন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাট ও বল হাতে তিনি কামাল করছেন। সাত ম্যাচে, ১৭৬ স্ট্রাইক রেট রেখে ১৯১ রান করার পাশাপাশি ৭টি উইকেটও নিয়েছেন। তাঁর অফ স্পিন ওয়াংখেড়েতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে

ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে বাতিল হলে, রিজার্ভ ডে রেখেছে আইসিসি। সেক্ষেত্রে ম্যাচ শুরু করতে দেরি হলে, বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ৯০ মিনিট থাকবে এবং শুক্রবারে এজন্য বরাদ্দ থাকছে ১২০ মিনিট। এটা নিশ্চিত করা হবে যে অন্তত ৫ ওভার যেন ম্যাচটি খেলা হয়। তবে, ম্যাচ যদি পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তাহলে সুপার ৮ পয়েন্ট টেবিলের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে, ফাইনালে পৌঁছে যাবে ইংল্য়ান্ড। কারণ, সুপার ৮-এ গ্রুপ পর্বে ভারতের থেকে ভাল অবস্থায় শেষ করেছেন ইংরেজরা। নিজেদের গ্রুপে ৩ ম্যাচেই জিতে শীর্ষ বাছাই হিসাবে শেষ করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, ২টি ম্যাচ জিতে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে ভারত।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত ও ইংল্যান্ড মোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার টিম ইন্ডিয়া এবং দুবার ইংল্যান্ড জিতেছে। এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ২ বার ভারত ও ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড টিম ইন্ডিয়াকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল। তার দু’বছর পর, ২০২৪ সালের সেমিফাইনালে ভারত ৬৮ রানে জয়লাভ করে প্রতিশোধ নেয়।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share