Diet And Nutrition: পুষ্টির ঘাটতিতে দেখা দিচ্ছে একাধিক শারীরিক সমস্যা! বাড়ছে কোন কোন রোগের প্রকোপ?

lack of proper diet and nutrition deficiency root cause many diseases young people how to overcome

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

মাত্র তিরিশের চৌকাঠ পেরিয়ে কেউ ভুগছেন হাঁটু ও কোমরের যন্ত্রণায়। আবার কেউ লাগাতার ক্লান্তিবোধ অনুভব করেন। অনেকেই সিঁড়িতে কয়েক ধাপ ওঠার পরেই শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। দৈনন্দিন জীবনে এমন নানান শারীরিক অসুবিধায় অনুভব করছেন তরুণ প্রজন্মের একাংশ। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের সমস্যার নেপথ্যে সব সময় জটিল অসুখ থাকছে না। পুষ্টির অভাবেই অধিকাংশ সময়ে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতা প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা তৈরি করছে‌।

কেন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পুষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবারের অভাবেই পুষ্টির সমস্যা হয় না। বরং ভারতের মতো দেশে খাবার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পুষ্টির অভাব বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সতর্ক নন।‌ তার ফলেই তাঁদের শরীরে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খাবার খান। এর ফলে অন্ত্র এবং লিভারের উপরে এর গভীর প্রভাব পড়ে‌। আবার অধিকাংশ সময়েই তাঁদের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ অধিক থাকে। ব্যালেন্স ডায়েট খুব কম মেনে চলেন। আর এর জেরেই বিপদ বাড়ে। অনেকেই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খিদে মেটাতে পিৎজা কিংবা বার্গারের মতো খাবার খাচ্ছেন। কেউ আবার প্যাকেটজাত খাবার চটজলদি বানিয়ে নিচ্ছেন। ফলে শরীরের সমস্ত চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। নিয়মিত খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিনের পাশপাশি ভিটামিন, ফাইবার, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট না থাকলে শরীর সুস্থ থাকবে না। শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দেবে।

পুষ্টির অভাবে কোন রোগের প্রকোপ বাড়ছে?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাড়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পুষ্টির অভাব। বিশেষত মহিলারা তিরিশের পরেই হাড়ের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হাঁটু কিংবা কোমরে যন্ত্রণা, দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো কিংবা হাঁটাচলা করায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পুষ্টির অভাবেই এই সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শরীর পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাচ্ছে না। কারণ, দুধ, ডিম, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার অর্থাৎ লেবু, কিউইর মতো ফল অনেকেই নিয়মিত খান না। এর ফলে শরীরে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। তার থেকেই বাড়ে ভোগান্তি।

ক্লান্তিবোধ অনেকের নিয়মিত কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে আয়রনের ঘাটতি অনেক সময় এই ক্লান্তিবোধের নেপথ্যে কাজ করে। প্রক্রিয়াজাত মুখরোচক মাছ-মাংসের পদ খেলে শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। বরং নানান রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। তাতে আয়রনের চাহিদা মেটে। কিন্তু মাছ, মাংস, সোয়াবিনের মতো পদ হালকা মশলা, কম তেলে টাটকা রান্না করে খেলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটে। আয়রনের অভাব পূরণ হয়। আবার প্রোটিনের পাশপাশি নিয়মিত মোচা, ডুমুর, কাঁচকলার মতো সব্জি খাওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে‌। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে ক্লান্তি বোধ কমে।

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ভিটামিনের অন্যতম মূল উৎস হল সব্জি! এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ নিয়মিত শাক-সব্জি খায় না। আর এর ফলেই শ্বাসকষ্ট, চুল পড়া, দাঁতের সমস্যা এমনকি দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, টমেটো, লাউ, পালং শাক, পটল, ঢ্যাঁড়শ কিংবা উচ্ছের‌ মতো‌ সব্জি নিয়মিত খেলে শরীরে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-র মতো একাধিক প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো নানান খনিজের চাহিদা ও পূরণ হয়। এই উপাদানগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। হৃদপিণ্ড থেকে কিডনি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার চাবিকাঠি। আবার মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে। সবমিলিয়ে নিয়মিত সবুজ সব্জি শরীর সুস্থ রাখতে পারে।

তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে, পুষ্টি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান খাবার থেকেই সহজে সংগ্রহ করা যায়। তাই প্রতিদিনের খাবার কতখানি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকলে সুস্থ জীবন যাপন সহজ হয়ে যাবে।

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share