মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ করে, তবে তাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই মর্মে সতর্ক করে দিল ইরান (Iran)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US) ঘোষণার পর, যেখানে তিনি বলেন যে একটি ‘নৌবহর’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এরই মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি ওই অঞ্চলের আরও কাছে চলে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ ইরানি আধিকারিক জানান, ওয়াশিংটন এই হামলাকে সীমিত বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, তেহরান এর জবাব দেবে সবচেয়ে কঠোর উপায়ে।
ইরানের সতর্কবার্তা (Iran)
ইরানের পক্ষে এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন-সহ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী বহর ভারত মহাসাগর পেরিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি বড় সামরিক শক্তি ইরানের দিকে এগোচ্ছে।” তবে তিনি এও জানান, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী আবারও হামলার শিকার হলে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সব কিছু দিয়েই পাল্টা আঘাত হানতে কোনও দ্বিধা করব না।”
সর্বাত্মক সংঘর্ষই হবে ভয়াবহ
তিনি বলেন, “যে কোনও সর্বাত্মক সংঘর্ষই নিশ্চিতভাবে হবে ভয়াবহ।” তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য কোনও হুমকি নয়, বরং একজন কূটনীতিক ও অভিজ্ঞ সেনা হিসেবে তিনি যে বাস্তবতা তুলে ধরাকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন, সেটাই তিনি প্রকাশ করেছেন। এই ক্রমবর্ধমান কঠোর ভাষার পটভূমিতে রয়েছে ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, যা গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, বিক্ষোভ দমনে সরকারের অভিযানে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন (Iran)।
এর আগে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে অথবা তেহরান যদি তার পরমাণু কর্মসূচি ফের শুরু করে, সে ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছরের জুন মাসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকা (Iran)। একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ বহর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে (US)। ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে।

Leave a Reply