Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার

Sunetra pawar takes oath woman deputy cm

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা (Sunetra Pawar) পাওয়ার আজ, শনিবার মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী (Woman Deputy CM) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী অজিত পাওয়ার-সহ আরও চারজনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই দায়িত্ব নিতে প্রশ্ন হচ্ছিলেন। সুনেত্রাকে আবগারি শুল্ক, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা অর্থ ও পরিকল্পনা দফতরের দায়িত্ব এখন সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।

এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা (Sunetra Pawar)

বছর বাষট্টির সুনেত্রাকে এদিন সর্বসম্মতিক্রমে এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। দলের নেতা ছগন ভুজবল তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং দিলীপ পাতিল-সহ একাধিক বিধায়ক তা সমর্থন করেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেটি তিনি পরে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে পাঠান। শপথ গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুনেত্রাকে শুভেচ্ছা জানান। কারজাত-জামখেদ কেন্দ্রের বিধায়ক এবং সুনেত্রার আত্মীয় রোহিত পাওয়ার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অজিত দাদার জায়গা কেউ নিতে পারবে না, তবে অন্তত সুনেত্রাবাইয়ের রূপে কোথাও যেন আমরা অজিত দাদাকেই দেখতে পাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাথার ওপর গভীর শোকের পাহাড়, সবাই যখন শোকস্তব্ধ, তখন কীভাবে অভিনন্দন জানাব, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না।”

সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত

এনসিপি পুনর্মিলনের আলোচনা কোন দিকে যাবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর (Sunetra Pawar)। অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার জানান, বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে সুনেত্রা পাওয়ারের নির্বাচন এবং তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এরপর অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন (Woman Deputy CM)। পরে শরদ পাওয়ার স্পষ্ট করেন, এনসিপি পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা চলছে ঠিকই, তবে তিনি সরাসরি সেই আলোচনায় যুক্ত নন। তাঁর কথায়, এই আলোচনা হচ্ছে অজিত পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিলের মধ্যে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সুনেত্রা পাওয়ার রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে নীরব ছিলেন। ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বারামতি কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রয়াত স্বামীর দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিনি তাঁর ননদ এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হন (Sunetra Pawar)।

সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রী

এরপর সুনেত্রা রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। সূত্রের খবর, বুধবার অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত তাঁকে জানানো হয়। অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপির শীর্ষ নেতারা প্রস্তাবিত দলীয় একীভূতকরণ নিয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন না। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এতে এনসিপির মধ্যে শরদ পাওয়ারের প্রভাব আবার বাড়বে। বরং তাঁদের ইচ্ছা ছিল, সুনেত্রাকে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা (Woman Deputy CM)। অজিত পাওয়ার শিবিরের ধারণা ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী এনসিপির নেতৃত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে দল একীভূত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে (Sunetra Pawar)। সূত্রের খবর, এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে জানানো হয় যে তাঁকে সামনে এসে নেতৃত্ব দিতে হবে। রাজ্যের শীর্ষ নেতারা যখন বারামতিতে এসে এনসিপি নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছিলেন, তখনই উদ্ভূত রাজনৈতিক বাস্তবতা অজিত পাওয়ারের নিকটাত্মীয়দের জানানো হয়। পরিবার যখন গভীর শোকে নিমগ্ন, তখনও স্পষ্ট (Woman Deputy CM) হয়ে যায় যে সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে (Sunetra Pawar)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share