DRDO SFDR Test: র‌্যামজেট প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি, ডিআরডিও-র পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক ভারতের

India Enters Elite Club with Successful SFDR Ramjet Missile Test by DRDO

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারত আরও এক ধাপ এগোল। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) সফলভাবে সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট (SFDR) প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে। বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। সেই এলিট গ্রুপের নবতম সদস্য হল ভারত।

ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওড়িশার উপকূলবর্তী চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এ এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই সাফল্যের ফলে ভারত সেই বিশেষ দেশগুলির তালিকায় প্রবেশ করল, যারা র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

র‌্যামজেট প্রযুক্তি ঠিক কী?

র‌্যামজেট একটি এয়ার-ব্রিদিং জেট ইঞ্জিন, যেখানে প্রচলিত জেট ইঞ্জিনের মতো ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে না। ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব উচ্চগতিকে ব্যবহার করে বাতাসকে সংকুচিত (কমপ্রেসড্) করা হয়। সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেটে কঠিন জ্বালানি নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানো হয় এবং বাইরের বাতাস ইঞ্জিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে শক্তিশালী থ্রাস্ট সরবরাহ করে। প্রচলিত রকেট মোটর যেখানে দ্রুত জ্বালানি পুড়িয়ে গতি হারায়, সেখানে র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতিতে উড়তে পারে— বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে। ফলে এগুলি আরও দ্রুত, অধিক কৌশলী এবং শত্রু বিমান দ্বারা এড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে।

কীভাবে পরীক্ষা চালাল ডিআরডিও?

ডিআরডিও জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি ভূমিভিত্তিক বুস্টারের সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানো হয়। নির্ধারিত ম্যাক সংখ্যায় পৌঁছানোর পর র‌্যামজেট সিস্টেম সক্রিয় হয়। পরীক্ষার সময় নজেলহীন বুস্টার, সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট মোটর এবং ফুয়েল ফ্লো কন্ট্রোলার-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ডিআরডিও। ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য বঙ্গোপসাগর উপকূলে একাধিক উন্নত ট্র্যাকিং যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। উড়ানের সময় সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রোপালশন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে এই পরীক্ষায়। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL), হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL), রিসার্চ সেন্টার ইমারাত (RCI) এবং ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-সহ ডিআরডিও-র একাধিক ল্যাবের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করেন।

কেন ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। র‌্যামজেট-চালিত আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চ শক্তি বজায় রাখে। এর ফলে যুদ্ধবিমানগুলি বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (BVR) যুদ্ধে আরও বেশি সুবিধা পাবে। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ যুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে আরও আগে এবং আরও নিরাপদ দূরত্ব থেকে আক্রমণ চালাতে পারবেন।

কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ জয়

বিশ্বজুড়ে খুব কম দেশই এই জটিল প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে, কারণ অধিক উচ্চগতিতে ক্ষেপণাস্ত্রে স্থিতিশীল দহন বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ভারতের এই সাফল্য বিদেশি প্রযুক্তির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাবে এবং স্বদেশি প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে। ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের একাধিক ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে, যা ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share