তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
সকালের প্রাতঃরাশে খান কয়েক ডিম। দুপুরে আবার পাতে থাকছে মাছ কিংবা মাংস! সন্ধ্যা হতেই চটজলদি খাবার না পেলে মন ভরে না। কখনও এগ চিকেন রোল, আবার কখনও চিকেন মোমো! বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সঙ্গী চিকেন পিৎজা কিংবা বার্গার! বিয়ের নেমন্তন্ন কিংবা জন্মদিন উদযাপন, মাছ-মাংস না থাকলে তো ভুরিভোজ অসম্পূর্ণ! আর এতেই বাড়াচ্ছে বিপদ! শহুরে ভারতীয়দের নিয়মিত খাবারের তালিকায় অধিকাংশ সময়েই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাবার থাকছে। আর তার জেরেই নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অতিরিক্ত প্রোটিন কী? শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে কি অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস বাড়ছে?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রোটিনের চাহিদা কতখানি, সেটা নির্ভর করে বয়স ও শরীরের ওজনের উপরে। অর্থাৎ, সাধারণত শরীরে প্রতি কেজিতে এক গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের ৮০ কেজি ওজন হলে, দিনে তাঁর ৮০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। আবার প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার ওজন যদি ৫০ কেজি হয়, তাহলে দিনে তাঁর ৫০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া জরুরি। তবে নিয়মিত খেলাধূলা করলে বা অতিরিক্ত জিম করলে, শরীরে প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা হয়। অর্থাৎ, কেজি প্রতি ২ গ্রাম প্রোটিন জরুরি হয়। একজন খেলোয়াড়ের ৮০ কেজি ওজন হলে, তার ১৫০-১৬০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি।
ফাস্ট ফুডে রয়েছে অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট
তবে সাধারণ মানুষের প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন নিয়মিত খাচ্ছেন। অর্থাৎ, শরীরে ৮০ গ্রাম প্রোটিন দরকার হলেও দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত তাঁরা ১৫০-২০০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। যা খুবই বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শহুরে ভারতীয়দের চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের জেরেই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে। পিৎজা, বার্গার, রোল কিংবা হটডগের মতো খাবারে প্রোটিন থাকে, মাংস, ডিম কিংবা পনির, সোয়াবিন জাতীয় খাবার দিয়েই এগুলো তৈরি হয়। তরুণ প্রজন্মের বহু শহুরে ভারতীয় এই ধরনের খাবার নিয়মিত খান। তার ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট শরীরে যায়। যা সুস্থ থাকার পথে সমস্যা তৈরি করে।
অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে?
কিডনি সমস্যা হতে পারে!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি করে। ফলে কিডনির কার্যকারিতা বাড়ে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন খেলে কিডনির কাজ বাড়ে। ফলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।
ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন উপাদান শরীরে মিশতে জলের প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, অতিরিক্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। তবে অনেকেই সেই অনুপাতে জল পান করেন না। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তাই অতিরিক্ত গরমে বাড়তি প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
হজমের সমস্যা হতে পারে!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন হজম করতে সময় লাগে। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে। লিভারের ওপরেও বাড়তি চাপ পড়ে।
ওজন বাড়তে পারে!
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ সময়েই প্রোটিন জাতীয় খাবার অতিরিক্ত তেল ও মশলা ব্যবহার করে রান্না করা হয়। তাই শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করা জরুরি। কিন্তু সেটা না হলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, খাবারে প্রোটিন রাখার পাশপাশি কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবার রাখাও জরুরি। অর্থাৎ, পনির, মাছ কিংবা মাংসের সঙ্গে সম পরিমাণে সব্জি, ফল খেতে হবে। তবেই হজম ঠিকমতো হবে। অতিরিক্ত ওজন বাড়বে না।

Leave a Reply