মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম তথা মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Quota Law) কার্যকর করার পথে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আসন পুনর্বিন্যাসের আগে সংরক্ষণ চালু করতে আইনটির সংশোধনী বিল চলতি সপ্তাহেই সংসদে আনার পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার। বর্তমান আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা, উভয় ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আইনটি এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া এই আইন নিয়ে চলতি বাজেট অধিবেশনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে প্রস্তুত। লক্ষ্য—মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইনকে (মহিলা সংরক্ষণ) ২০২৯ সালের নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যকর করা।
সরকারের তরফে আলোচনা শুরু
সরকারি সূত্রে খবর, এবার সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করতে নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনাকেই সীমা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী তাই তা পাস করিয়ে কার্যকর করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর তা নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি নিজে একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারপক্ষের তরফে এ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
কী বলছে প্রস্তাব?
সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮১৬ করা হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি, তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি জনজাতি (ST)-দের জন্য সংরক্ষণ বজায় রেখেই “ভার্টিক্যাল বেসিস”-এ এই আসন বণ্টন করা হবে। রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও একইভাবে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রো-রাটা ভিত্তিতে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ প্রথমে ১৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। ভবিষ্যতে সংসদ চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতে পারবে।
দুই বিলের খসড়া কী?
সরকার যে দুটি বিল আনতে পারে, সেগুলি হল— একটি সংবিধান সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম-এ পরিবর্তন আনা হবে। আরেকটি সাধারণ বিল, যা ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য আনা হবে। ২০২৩ সালে পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন (সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী) অনুযায়ী, পরবর্তী জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ ২০২৯ সালের পর। তবে সরকার চাইছে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে আনতে। ডিলিমিটেশন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা, যার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply