মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিকে লক্ষ্য করে এক বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা (Delhi terror plot) বানচাল করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও বিহার থেকে চার ‘র্যাডিক্যালাইজড’ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং খেলনা গাড়িতে বোমা লাগিয়ে হামলা চালানোর সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল, অনলাইন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও লোককে নিয়োগের চেষ্টা করছিল এবং দিল্লিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল।
বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও মহারাষ্ট্র এটিএস-এর যৌথ অভিযানে মুম্বইয়ের কুর্লা ও খাদাভলি এলাকা থেকে দুজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ওড়িশা ও বিহার থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুজনের নাম মোসাব আহদাম ওরফে কালাম কল্যাণ এবং মোহাম্মদ হামাদ কোল্লারা। তারা জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) এবং আইএসআইএস-এর প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনলাইনে ‘মিশন খিলাফত’ ও ‘সোলজার্স অফ জিহাদ’-এর মতো গ্রুপের মাধ্যমে তারা র্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।
জঙ্গিদের লক্ষ্যে ছিল রাম মন্দির, সংসদ ভবন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা খেলনা গাড়ির ভিতরে আইইডি লুকিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে ভিড়াক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে হামলা চালানো। তারা দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল এবং আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সংবেদনশীল নথি, ডিজিটাল চ্যাট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং একাধিক আইইডি। পুলিশের দাবি, ভুবনেশ্বরের শেখ ইমরান এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিল যেখানে “জিহাদ”, “খিলাফত” এবং সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে রাম মন্দির, সংসদ ভবন ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে আলোচনা হত। অন্যদিকে, সোহেল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যুবকদের উসকানি দিত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়াও, এক অভিযুক্ত দিল্লির লালকেল্লা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানে গিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় স্পেশাল সেল।
খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসে বিস্ফোরক
এই গ্রেফতার দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ছক কষছে। খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা দেখে বোঝা যায়, জঙ্গিরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।” তদন্তে আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply