মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ram Mandir) ভক্তদের দান আত্মসাত করার অভিযোগে চলা তদন্তে (Donation Embezzlement Case) বড় পদক্ষেপ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। শুক্রবার সকালে এই মামলায় এফআইআরে নাম থাকা আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব। আদালত বন্ধ থাকায় তাঁদের সোমবার পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই দিনই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিশেষ আদালতে তোলা হবে তাঁদের।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যেসব ধারায় মামলা (Ram Mandir)
পুলিশ ও প্রসিকিউশনের দাবি, সুভাষ ছাড়া বাকি সাত অভিযুক্তের কাছ থেকে মোট ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৯৩ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এঁরা সকলেই মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা, বাছাই এবং বান্ডিল তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক রিপোর্ট এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের এক সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ ও ৩(৫) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়।এদিকে, তদন্তের মধ্যেই নৈতিক দায় স্বীকার করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। যদিও তাঁদের কারও নাম এফআইআরে নেই। প্রথমে চম্পত দান চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরে সিটের তদন্তকে স্বাগত জানান তিনি। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।
৫০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি অটোচালকের!
ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিন্নু। একসময় তিনি অযোধ্যায় অটোরিকশা চালাতেন। পরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদে (VHP) যোগ দিয়ে চম্পতের ব্যক্তিগত চালক হন এবং করসেবকপুরমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরের দানবাক্সের চাবি তাঁর কাছেই থাকত এবং দানের নিরাপত্তা, গণনা ও ব্যাঙ্কে পৌঁছে দেওয়ার পুরো ব্যবস্থার ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। অভিযোগ, নগদ অর্থ, সোনা, রুপো ও হিরের অলঙ্কার আত্মসাৎ করে তিনি ৫০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি করেছেন। যদিও টিন্নুর দাবি, তিনি দান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, এবং ২০০৮ সালেই অটো চালিয়ে উপার্জিত অর্থে (Ram Mandir) ওই সম্পত্তি কিনেছিলেন। টিন্নুর ভাইপো মনীশও দান গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকেও চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার হয়েছে। রামশঙ্কর মিশ্র ওরফে রবি দীর্ঘদিন ধরে দান আত্মসাতের চক্রে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিয়ম ভেঙে আর্থিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন এবং তাঁর ছেলে অনুকল্প এবং জামাই লবকুশ মিশ্রকেও এই কাজে যুক্ত করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে নগদ অর্থ বাছাই করতে দেখা গিয়েছে (Donation Embezzlement Case)।
উদ্ধার লাখ লাখ টাকা
অনুকল্প রামশঙ্করের ছেলে এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের আত্মীয়। তিনি অযোধ্যার মিল্কিপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ি থেকেও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। লবকুশও দানসামগ্রী গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তদন্তে দাবি, অনুকল্পের সঙ্গে মিলে তিনি অর্থ আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সিসিটিভিতে তাঁর কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে এবং তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। মন্দিরের পরিচারক হিসেবে দানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দলে ছিলেন অবিনাশ। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ পুরো নগদ গণনা ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। এদিকে, করুণেশের বিরুদ্ধে দানের আর্থিক নথিতে কারচুপি করার অভিযোগ উঠেছে। আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনের সরাসরি যোগ রয়েছে ট্রাস্টের সদ্য পদত্যাগী দুই পদাধিকারীর সঙ্গে। টিন্নু ছিলেন চম্পতের চালক এবং মনীশ তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আবার, রামশঙ্কর, তাঁর ছেলে অনুকল্প এবং জামাই লবকুশ ট্রাস্টি অনিলের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত (Ram Mandir)।
কী বলছে সিসিটিভির ফুটেজ?
তদন্তে জানা গিয়েছে, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থ এবং ব্যাঙ্কে জমা হওয়া অর্থের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ গোপন ক্যামেরা বসায় (Donation Embezzlement Case)। সেই ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্তরা সিসিটিভির সামনে দাঁড়িয়েই গোপনে কিছু টাকা পকেটে পুরে ফেলছেন। কখনও বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে পরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পথে সেই নোট বের করে নেওয়া হত। নগদের পাশাপাশি ভক্তদের দেওয়া কিছু গয়নাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে মন্দিরে দান করা (Donation Embezzlement Case) ২০০ কেজি রুপো চুরির দাবি তদন্তে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে (Ram Mandir)।

Leave a Reply