India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

indias-big-opportunity-in-the-british-market-duty-free-access-could-increase-textile-exports-by-1-6-billion-will-china-bangladesh-be-under-pressure

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হওয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প। শিল্পমহল এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রপণ্যের রফতানি (India Textile Exports) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। আগামী কয়েক বছরে অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে প্রশ্ন একটাই- শুল্ক উঠে যাওয়াই কি ভারতের জন্য যথেষ্ট? না কি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে?

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (India-UK CETA)?

এতদিন ব্রিটেনে ভারতীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রফতানির (India Textile Exports) ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হত। ফলে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি দামের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ত। এখন সেই শুল্কের বড় অংশ উঠে যাওয়ায় ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে ব্রিটেনের বাজারে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।

রফতানি কতটা বাড়তে পারে?

শিল্পমহলের অনুমান, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্রিটেনে ভারতের বস্ত্র রফতানিতে (India Textile Exports) প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক, গৃহস্থালির বস্ত্র, সুতি কাপড়, কার্পেট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে।

প্রতিযোগিতায় কী বদলাবে?

এতদিন বাংলাদেশ শুল্ক- সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের বাজারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে চিনের শক্তি তার বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা। নতুন চুক্তির ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, দামের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা ছিল, তা অনেকটাই কমে গেল। ফলে ব্রিটিশ ক্রেতাদের কাছে ভারত এখন আরও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থা এক দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তারা ভারতের দিকে আরও বেশি নজর দিতে পারে।

কোন কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে?

এই চুক্তির (India-UK CETA) ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে- তামিলনাড়ু, গুজরাট, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পাটশিল্প এবং কিছু তৈরি পোশাক রফতানিকারক সংস্থাও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারে।

লাভ হতে পারে আরও অনেক ক্ষেত্রে

এই চুক্তির (India-UK CETA) ফলে উপকৃত হতে পারে- চামড়া শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রও। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি শিল্প নয়, দেশের সামগ্রিক রফতানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কি সব সমস্যার সমাধান?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। শুধু শুল্ক কমে গেলেই রফতানি বাড়বে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভারতের সামনে এখনও রয়েছে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের উপর জোর দিতে হবে।

সুযোগের পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ

নতুন বাণিজ্য চুক্তির (India-UK CETA) ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে শুধু শুল্ক-সুবিধা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর আরও জোর দিতে হবে। এই ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি করতে পারলে ভারত ব্রিটেনের বাজারে নিজের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে সক্ষম হবে এবং বিশ্ব বস্ত্র বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাজ্য সফরের সময় লন্ডনে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিঃসন্দেহে রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সুযোগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে উৎপাদন, গুণমান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, চুক্তি সুযোগ এনে দিয়েছে, এখন সেই সুযোগকে সাফল্যে বদলে দেওয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share