Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

mark zuckerberg apologizes for csam and deepfake lapses meta give concern over pm modi video row

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন মেটা। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্ন’-এর মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং ডিপফেক মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র চাপে পড়ে মেটা। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে বাড়ে সংস্থার। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা-র জন্যই নতি স্বীকার!

সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকেরবার্গ এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র মেটাকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা কেবলমাত্র একটি নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে না। বরং কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বেছে দেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী যে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা ইন্টারমিডিয়ারিদের দেওয়া হয়, তা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

বুধবার মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। বৈঠকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেটা। মেটার তরফে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রান্কেল, আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়। কেন্দ্রের তরফে মেটাকে কঠোরভাবে বলা হয় আইন-নিয়ম মেনে চলতে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আইন মেনে চলতে হবে। সূত্রের খবর, মেটার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও ফ্যাক্ট চেকিং মেকানিজম আগে থেকেই রয়েছে।

কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

এর আগে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় মেটাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনও ইন্টারমিডিয়ারির কাজ নয়, বরং প্রকাশকের (Publisher) মতো আচরণ। তাই তিন দিনের মধ্যে মার্ক জুকেরবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। দুবে বলেন, “সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করছে। যদি এই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়, তবে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য সরাসরি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফেসবুকে অনুপস্থিত ছিল। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ

শুধু ভিডিও বিতর্ক নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, মেটা এবং ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই ধরনের কনটেন্ট রয়ে যায়, যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্বেগ একাধিকবার জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্সটাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন নিয়ে ভিডিও দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরদারিতে এসেছে মেটা। সরকারের তরফে গত মাসে এই ইস্যুতে নোটিসও পাঠানো হয়।

ভুলস্বীকার জুকেরবার্গ-এর

পরিচালনগত ত্রুটি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেটা-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মেটা-র সিইও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (সিএসএএম) এবং ডিপফেক কন্টেন্ট (মূলত ভিডিও) ছড়ানোর বিষয়ে তাঁদের ভুলস্বীকার করেছেন। জুকেরবার্গ বলেছেন যে, তাঁদের কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তাঁরা আরও সতর্ক থাকবেন। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের সঙ্গে আবার একপ্রস্ত আলোচনা হতে পারে মেটার।

কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ভিডিওটি ছিল নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলা ৩৬ দিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম সরাসরি বার্তা। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র পরীক্ষা (Prevention of Unfair Means) সংশোধনী বিল ২০২৬ অনুমোদন করে এবং বিলটি সংসদের উভয় কক্ষেই পাস হয়। গত ২৮ জুলাই মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share