মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নজরদারি এড়াতে এবার পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের চ্যাট পরিষেবা ব্যবহার করে জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) নিয়োগ করা জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তানভিত্তিক (Pakistan) জঙ্গি সংগঠনগুলি। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে নিরাপত্তা আধিকারিকদের তদন্তে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-সহ (ISI) একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীও এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে নজরদারি বাড়ায় যোগাযোগের নতুন মাধ্যম (Terrorists Using Porn Websites) খুঁজছে জঙ্গি হ্যান্ডলাররা। কয়েকটি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে থাকা রিয়েল-টাইম চ্যাট সুবিধা, যা সাধারণত কাছাকাছি এলাকার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তৈরি, সেই পরিষেবাকেই গোপন বার্তা আদানপ্রদানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
টর-ভিত্তিক অ্যাপেও নজর
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও বেশ কিছু বিশেষ ডিজিটাল টুলের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গি হ্যান্ডলাররা টর-ভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপ কোটক্স (Cotecks) এবং কনিয়ন (Conion)-এর মতো পরিষেবাও ব্যবহার করছে। এই ধরনের প্রযুক্তিতে এনক্রিপ্টেড নোডের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ। ভারতে কনিয়ন-এর এপিকে ফাইলের অ্যাক্সেস ইতিমধ্যেই ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এপিকে হল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অ্যাপ ইনস্টল ও বিতরণের জন্য ব্যবহৃত ফাইল ফরম্যাট।
ফ্রান্স, ভিয়েতনাম ও অজ্ঞাত অ্যাপও নজরে
নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি অ্যাপও। ওই অ্যাপে সিম কার্ড বা ফোন নম্বর ছাড়াই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মেসেজ পাঠানো যায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ভিয়েতনামভিত্তিক কয়েকটি অ্যাপ এবং মুন চ্যাট (MoonChat)-এর মতো অ্যানোনিমাস প্ল্যাটফর্মও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, মুন চ্যাট-এর কয়েকটি পিজিপি-এনক্রিপ্টেড সংস্করণের উৎস নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং সেগুলির কিছু সংস্করণে প্রচলিত রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাও নেই।
ভিপিএন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ অ্যাপ ডাউনলোড
নজরদারি এড়াতে নয়া চাল (Terrorists Using Porn Websites) জঙ্গিদের, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে পর্ন সাইটের মাধ্যমে চলছে যোগাযোগ। ভারতে নিষিদ্ধ থাকা বেশ কিছু পর্নোগ্রাফিক অ্যাপও ভিপিএন ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ডাউনলোড করা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি। ভিপিএন ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা আড়াল করা এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিক এনক্রিপ্ট করা সম্ভব হয়। ফলে অনলাইন কার্যকলাপ শনাক্ত করা আরও কঠিন হতে পারে।
টুজি নেটওয়ার্কেও চলছে যোগাযোগ
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, উপত্যকায় (Jammu & Kashmir) কিছু জঙ্গি হ্যান্ডলার ও তাদের নিয়োগ করা সদস্য এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করছিল, যেগুলি টুজি বা এজ নেটওয়ার্কেও কাজ করতে সক্ষম। কয়েকটি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফোন নম্বর বা ই-মেল ঠিকানার প্রয়োজন হয় না বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
ভার্চুয়াল সিম নিয়েও তদন্ত
বিদেশি সংস্থার তৈরি ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার বন্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় এই নতুন যোগাযোগ কৌশলের বিষয়টি সামনে আসে। ভার্চুয়াল সিম প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোনে ফোন নম্বর তৈরি বা ব্যবহার করা যায়, ফলে প্রচলিত টেলিকম ব্যবস্থার তুলনায় কম ডিজিটাল চিহ্ন রেখে যোগাযোগ করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার তদন্তেও ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার সামনে এসেছিল। ওই হামলায় ৪০ জন সিারপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন এই সমস্ত বিকল্প ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে উপত্যকার স্থানীয় নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং নজরদারি এড়ানোর নতুন প্রযুক্তিগত কৌশলগুলিকে প্রতিহত করা।
কেন এই নয়া পদ্ধতির ব্যবহার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারির ফাঁদ এড়াতে মারাত্মক চাল চেলেছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতারা (Terror groups porn sites)। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং নতুন সদস্য নিয়োগ করতে সাধারণ অ্যাপ ছেড়ে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট ও গোপন এনক্রিপ্টেড অ্যাপকে নিজেদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে তারা (ISI Jammu and Kashmir surveillance)। পাকিস্তানভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকদের মগজধোলাই ও গোপন বার্তা পাঠাতে এই ছক কাজে লাগাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা সিগন্যালের মতো পরিচিত মাধ্যমে ইদানিং কড়া নজরদারি চলায় জঙ্গি সংগঠনগুলো বিকল্প পথ ধরেছে। বর্তমানে তারা এমন কিছু পর্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, যেগুলোতে ডেটিংয়ের নামে ‘লাইভ চ্যাট’ বা গোপন বার্তা পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু এনক্রিপ্টেড অ্যাপ বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডির প্রয়োজন হয় না।

Leave a Reply