BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

brics summit 2026 president putin said brics drives 40% of global gdp while west contributes only 18%

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির অর্থনৈতিক শক্তির প্রশংসা করে জি-৭-কে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করেছে ব্রিকস দেশগুলি। সেখানে জি-৭-এর অবদান ২৯ শতাংশ। পুতিন বলেন, একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোট বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলি থেকে। জি-৭-এর ক্ষেত্রে এই অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলির জনসংখ্যা বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে এই দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাজারও অত্যন্ত বড় এবং গতিশীল। জি-৭-কে ‘তথাকথিত জি-৭’ বলেও কটাক্ষ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। জি-৭-এর সদস্য হল আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।

রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমী দেশগুলির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব হন পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। পুতিন বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ‘নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য’ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি ছিল।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা

আমেরিকার সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কখনও কখনও ‘কুৎসিত রূপ’ নেয়। পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর অবরুদ্ধ করার চেষ্টা, সামুদ্রিক জাহাজ আটক এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ না করা দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে তিনি সেই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

‘পুরনো অর্থনৈতিক শক্তির জায়গা নিচ্ছে নতুন ইঞ্জিন’

পুতিনের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যেসব দেশ বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, তাদের জায়গায় ধীরে ধীরে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিগুলি উঠে আসছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পশ্চিমী দেশগুলির এখনও উন্নত পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি স্থির নয়—সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে তার চরিত্রও পরিবর্তিত হয়। শুক্রবারই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share