মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিনেমার জগতের পাশাপাশি এবার সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty as Cultural Advisor)। রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হল মহাগুরুকে। শুভেন্দু সরকারের এই নয়া পদে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়োগের ঘোষণার পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে মিঠুন, এই পদাধিকারে রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদাও পাবেন। খুব শীঘ্রই নয়া পদে মিঠুন দায়িত্ব নেবেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখান থেকেই এই নয়া দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিঠুন।
প্রশাসনিক ভূমিকায় মহাগুরু
রূপোলি পর্দার ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ থেকে শুরু করে রাজনীতির আঙিনা—বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার এক্কেবারে নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তিনি। নতুন এই দায়িত্ব সম্পর্কে মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘আমি খুব খুশি, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে উপযুক্ত ভেবেছেন। আমি একই রকম থাকব, কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থেকে যতটা পারব সাহায্য করব।” রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আইএএস সেলের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই মিঠুন চক্রবর্তীর নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রাজ্যপালের সসম্মান অনুমোদনক্রমেই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এই পদে বসানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সই করা এই বিজ্ঞপ্তির কপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে।
দীর্ঘ ও সফল পথচলা
অভিনয়ের দীর্ঘ ও সফল পথচলার পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানেও অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। প্রাক্তন বলিউড সুপারস্টার এবং বাংলার আইকন ৭৬ বছর বয়সী চক্রবর্তী ৭ মার্চ, ২০২১ এ কলকাতার একটি সমাবেশে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘ পথ চলেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় একাধিক ছবিতেও অভিনেতা মিঠুনকে সমান তালে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। পদ্মশিবিরের এই তারকা নেতার সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক মেলবন্ধন রাজনৈতিক মহলেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতদিন তাঁকে বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার আইকন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখেছে মানুষ। তবে এবার থেকে সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Reply