মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Delhi)। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। কয়েক মাস আগেই সেচ দফতর গঙ্গা ভাঙন নিয়ে একটি রিপোর্ট কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টে গঙ্গাভাঙনের (Ganga River Bank Erosion) মোকাবিলা বিহার, ঝাড়খণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছিল। সেই রিপোর্ট পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিন রাজ্যের প্রধানদের বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। গঙ্গাভাঙন নিয়ে দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীভাঙন রুখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ড্রেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গে বৈঠক
সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দিল্লি সফরের কারণ স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। বিভিন্ন মহলে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। তিনি জানান, এই সফর কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। তাঁর কথায়, “না না, রাজনৈতিক সফর নয়। কাল মালদা, মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন এবং বন্যাকে স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বৈঠক ডেকেছেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দফতরকে নিয়ে, মুখ্য সচিবরাও থাকবেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।” গঙ্গা ভাঙন সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে তিনি এর আগে জানান, “কাল তিন রাজ্যের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মিশনের বৈঠক রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল মহাশয় সভাপতিত্ব করবেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে যাব। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।”
নদীভাঙন রুখতে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সংশ্লিষ্ট জলসম্পদ সংস্থা এবং এনএইচপিসির সঙ্গে নদীভাঙন মোকাবিলায় একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে মালদহ থেকে নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের দলের কাজের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “নদীভাঙন রুখতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য ঝাড়খণ্ডের প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বিহার ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সহযোগিতায় ড্রেজিং এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।”

Leave a Reply