India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

india poverty records one of fastest declines, 49 crore people lifts over their situation said world bank

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দারিদ্র্য দূরীকরণে (India Poverty) উল্লেখযোগ্য সাফল্য ভারতের। বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির গড়েছে দেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। দৈনিক ৪.২ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬.১ শতাংশে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার আরও কমে ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে সম্ভব হল এই সাফল্য?

চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সংজ্ঞা অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে ছিল ২৭.১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে এখনও দেশের মোট দরিদ্র জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ শতাংশ বসবাস করেন। ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণে আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ১৩.৪ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন

পাশাপাশি মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্য ভর্তুকির সম্প্রসারণকেও দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অন্তত ৮১ কোটি উপভোক্তাকে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দিয়ে আসছে। এই বিনামূল্যের রেশন প্রকল্পও দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এদিকে, সরকারি পরিষেবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দারিদ্র্য দূরীকরণে ভারতের এই অগ্রগতিকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারত

তবে দারিদ্র্য হ্রাসের এই সাফল্যের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আয়ের কর্মীদের মধ্যে উপার্জনের ব্যবধান এখনও যথেষ্ট বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর আয় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ উপার্জনকারীদের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। সেই যাত্রাপথে দারিদ্র্য হ্রাসে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আয়বৈষম্য দূর করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আগামী দিনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share