মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্ষণ ও শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের (পকসো) মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (FTSC) প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের (Fast Track Special Courts) জন্য মোট ৩,৭৮৮.০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ২,৩৫৩.১৫ কোটি টাকা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির অংশ ১,৪৩৪.৮৯ কোটি টাকা। কেন্দ্রের বরাদ্দের অর্থ আসবে নির্ভয়া তহবিল থেকে।
ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০
কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে ৭৭৯টি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে বিশেষ পকসো আদালতও। ধর্ষণ এবং ২০১২ সালের পকসো আইনের আওতায় থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। মামলার সংখ্যা ও বিচারাধীন অবস্থার ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলাগুলিতে নতুন আদালত গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের জন্য একজন করে বিচারক, একজন বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর) এবং ছ’জন সহায়ক কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে আদালতের প্রশাসনিক কাজের চাপ কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
শিশু-বান্ধব ও সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্যাতিতাদের জন্য শিশু-বান্ধব ও সংবেদনশীল বিচারিক পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় যাতে তাঁদের নতুন করে মানসিক আঘাতের মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য ভালনারেবল উইটনেশ ডিপোজিশন সেন্টার (VWDC) এবং শিশু-বান্ধব আদালতকক্ষ গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের বিচার বিভাগ (Department of Justice)। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে। আদালতগুলির কাজের অগ্রগতি, মামলার নিষ্পত্তির হার এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য FTSC ড্যাশবোর্ড, পর্যায়ক্রমিক রিপোর্ট এবং ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করা হবে।
মহিলা ও শিশুদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে
কেন্দ্রের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষত মহিলা ও শিশুদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে। ধর্ষণ ও পকসো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নির্যাতিতদের সময়মতো বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফৌজদারি আইন সংশোধনী এবং ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (Fast Track Special Courts) প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। পকসো আইনের আওতায় ১০০টির বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে, এমন জেলাগুলিতে বিশেষ আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার আরও পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে দেশের বিচারব্যবস্থায় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply