মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজপথে মহা মিছিলের (BJP Rally in Kolkata) ডাক দিল গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin in Kolkata) নেতৃত্বে আদ, সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ শীর্ষক মহামিছিল হতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হবে মিছিল, সমাবেশ।
কারা কারা থাকবেন?
আজ মেগা এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিলে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এদিনের মিছিলে পা মেলাবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, ক্ষুদিরাম টুডু, ইন্দ্রনীল খাঁ, সুমনা সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, দীপঙ্কর জানা, উমেশ রাই-সহ মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন সজল ঘোষ, বিজয় ওঝা, রীতেশ তিওয়ারি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস ধর, শঙ্কর শিকদার, কৌস্তভ বাগচী, রাজেশ কুমার, দেবদাস মণ্ডল, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বিমান ঘোষ, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ – সহ বিধায়করা। এছাড়া, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী, সৌমিত্র খাঁ সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের থাকার কথা।
বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিতিন
দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছোনোর কথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। সেখানে যোগ দেবেন নিতিন। মিছিল শেষে বক্তৃতাও করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতে কর্মসূচি স্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্যান্য পদ্ম নেতৃত্ব প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। সরব হচ্ছে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও। রবিবার ইন্ডি জোটের দিল্লির আন্দোলনে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর ঠিক পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে।
বিরোধীদের আন্দোলন অরাজকতা সৃষ্টি করছে
বিরোধীদের আন্দোলন বর্তমানে আর শুধু রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মসূচিতে আটকে নেই। তা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তেমনটাই মনে করছেন দেশের শাসক দল বিজেপি। এই আবহে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে পদ্ম শিবির। কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও।’ গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও শীর্ষক সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যে দুই কর্মসূচির প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা
রবিবার একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করে বিজেপি। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। কোথাও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

Leave a Reply