মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই লক্ষ্যে আরও পাঁচটি রুশ নির্মিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্কোয়াড্রন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতে এই ব্যবস্থাটি ‘সুদর্শন’ নামে পরিচিত। সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘর্ষক্ষেত্রে চিনা প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় ভারতের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন এস-৪০০ স্কোয়াড্রনগুলি মূলত দেশের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় জোরদার করতে মোতায়েন করা হবে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ বাজিমাত ‘সুদর্শন’-এর
বর্তমানে ভারতের হাতে তিনটি এস-৪০০ সিস্টেম রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই আরও দুটি সিস্টেম ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ্যে আসে। ১০ মে ভারতের অভিযানের সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং এয়ারক্র্যাফ্ট ও নজরদারি বিমান আকাশে উঠতে পারেনি। চার দিনের সংঘর্ষে এস-৪০০ একাধিক পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করে এবং ইতিহাসের দীর্ঘতম আকাশপথে আঘাত হানার নজির গড়ে—পাকিস্তানের ভূখণ্ডের ভিতরে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি উচ্চমূল্যের গুপ্তচর বিমান ধ্বংস করা হয়।
আরও ৫ স্কোয়াড্রন এস-৪০০ সিস্টেম কেনার পথে ভারত!
প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাব বিবেচনা করবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এবার এটি যাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদে (DAC)। সেখান থেকে ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ (AoN) মিললে ব্যয় নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। পরে বিষয়টি অর্থ মন্ত্রকের মাধ্যমে যাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তান চিনা প্রযুক্তির এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল। তবে তা ভারতীয় বিমান প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। ভারত তখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের ব্যবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ক্ষেত্রেও মার্কিন ও ইজরায়েলি অভিযানের সময় কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
এস-৪০০ সিস্টেমকে রক্ষা করতে ‘প্যান্টসির এস-১’
এদিকে, এস-৪০০ সিস্টেমের পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা ও সেনাবাহিনীর থেকে ১৩টি রুশ ‘প্যান্টসির এস-১’ স্বয়ংক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে প্রস্তাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই ব্যবস্থা মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, স্বল্পপাল্লার রকেট এবং কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম। এর মধ্যে ১০টি প্যান্টসির সিস্টেম কেনা হবে বায়ুসেনার জন্য, যাতে ভবিষ্যতে মোট ১০টি এস-৪০০ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। বাকি তিনটি সেনাবাহিনী কিনবে সীমান্তে ক্রুজ মিসাইল, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, লয়টারিং মিউনিশন, সশস্ত্র ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য। জানা যাচ্ছে, প্যান্টসির কেনার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ফাস্ট-ট্র্যাক পদ্ধতিতে সরাসরি কিছু সিস্টেম কেনা হবে। পরে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ভারতের বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে দেশেই উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাহিনী এই প্যান্টসির ব্যবস্থা ব্যবহার করছে এবং ইরানি কামিকাজে ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Reply