মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ‘মানব’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ভারতের মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আজ, বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই কাঠামোকে বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন নিয়ে ভারতের অবস্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে ঠাঁই দেন (Manav Vision)। দায়িত্বশীল এআই গঠনে ভারতের অবদানের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কাঠামো নিশ্চিত করবে যে প্রযুক্তির বিকাশ হবে শক্তিশালী নৈতিক সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবেশাধিকার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।”
মানব (PM Modi)
উদ্যোগটির পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমি উপস্থাপন করছি এমএএনএভি (মানব)— এআইয়ের জন্য মানব দৃষ্টিভঙ্গি।” সংক্ষিপ্ত রূপটির ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী চারটি স্তম্ভ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এম ফর মরাল অ্যান্ড এথিক্যাল সিস্টেমস”, “এ ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স”, “এন ফর ন্যাশনাল সভারেনিটি”, “এ ফর অ্যাক্সিসেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিস্টেমস” এবং “ভি ফর ভ্যালিড অ্যান্ড লেজিটিমেট ফ্রেমওয়ার্ক।” এই সামিটের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একে একটি ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অনুষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রযুক্তি পরিমণ্ডলে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ওপরও জোর দেন তিনি (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে আপনাদের স্বাগত। এই সম্মেলন মানবজাতির এক-ষষ্ঠাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ভারতের প্রতিফলন (Manav Vision)।”
বৃহৎ প্রযুক্তি দক্ষতার ভান্ডার
দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ডিজিটাল অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যা এবং অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি দক্ষতার ভান্ডার, যা এআই উদ্ভাবনের জন্য দেশটিকে স্বাভাবিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।” এই সম্মেলনে ১০০-রও বেশি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি গ্লোবাল সাউথের জন্য গর্বের বিষয় এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে (PM Modi)।” তিনি তরুণ উদ্ভাবকদের ভূমিকারও উল্লেখ করেন। বলেন, “বিশ্বের যুবসমাজ দ্রুত ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এআই গ্রহণ করছে এবং এর দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিচ্ছে।” কৃষি, নিরাপত্তা, জনসেবা ও বহুভাষিক যোগাযোগে এআইয়ের প্রয়োগকে তিনি এর বিস্তৃত প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন (Manav Vision)।
প্রযুক্তিগত বিপ্লব
এআই-কে মানব ইতিহাসের এক রূপান্তরমূলক মুহূর্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করে মোদি একে অতীতের সেই সব প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেন, যেগুলি সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “মানব ইতিহাসে কিছু সন্ধিক্ষণ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা পুনর্নির্ধারণ করে। এই ধরনের উদ্ভাবনের পূর্ণ প্রভাব অনেক সময় পরে বোঝা যায়।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা যে প্রভাব দেখছি, তা কেবল শুরু। এবার গতি আরও দ্রুত এবং ব্যাপ্তি নজিরবিহীন (PM Modi)।” তিনি বলেন, “এআই যেমন যন্ত্রকে আরও বুদ্ধিমান করছে, তেমনি মানব-ক্ষমতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে মূল প্রশ্ন হল, মানবজাতি এই প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসল প্রশ্ন এটি নয় যে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী করতে পারবে। প্রশ্ন হল, আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কী করতে চাই (Manav Vision)।”
এআই-ও এক রূপান্তরমূলক শক্তি
রূপান্তরমূলক প্রযুক্তি সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও বয়ে আনে এআই। এ কথার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক শক্তির উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, “আমরা পারমাণবিক প্রযুক্তির ধ্বংসাত্মক দিকও দেখেছি, আবার মানবকল্যাণে তার অবদানও দেখেছি। এআই-ও এক রূপান্তরমূলক শক্তি।” তিনি বলেন, “প্রযুক্তিকে যন্ত্রকেন্দ্রিক নয়, মানবকেন্দ্রিক রাখতে হবে (PM Modi)।” ভারতের এআই দর্শনের ভিত্তি কল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, এ কথার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ যেন কেবল একটি ডেটা পয়েন্ট বা কাঁচামালে পরিণত না হয়।” এআইয়ের গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে একে ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “জিপিএস আমাদের পথ দেখায়, কিন্তু দিক আমরা নিজেরাই বেছে নিই।” সব শেষে তিনি বলেন, “ভারতের ‘মানব’ ভিশন একবিংশ শতাব্দীতে এআইয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ (Manav Vision) ভিত্তি হয়ে উঠবে।” এভাবে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নেতৃত্ব দেওয়ায় ভারতের (PM Modi) আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিতও দেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply