Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

Diabetes Rising Among Young Women in India Warning Signs and How to Stay Safe

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

ভারতে বাড়ছে ডায়াবেটিসের বোঝা! আর গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৈশোর পার করার পরেই ভারতীয় মেয়েদের শরীরে ডায়াবেটিস হানা দিচ্ছে। আর সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকাই, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে ডায়াবেটিস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অসংক্রমিত রোগের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ১৫ বছরের উর্ধ্বে ভারতীয় মহিলাদের প্রায় ৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ভারতে মোট মহিলা মৃত্যুর ৫ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে মারা যান। ভারতীয় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, এ দেশে মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী জীবনে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুস্থ জীবন যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

কেন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ধরনের জেরেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অর্থাৎ নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ব্যায়াম করা, যোগাভ্যাস করা কিংবা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকছে না। এর ফলে স্থুলতা বাড়ছে। তাছাড়া চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারে অনেকেই কম বয়স থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মহিলাদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, রোগ নির্ণয় না হওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয় না। ফলে, তিনি আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই রোগের চিকিৎসাও হয় না। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের একাংশ গর্ভবতী হওয়ার পরে জানতে পারেন, তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকক্ষেত্রে হয়তো মহিলা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। কিন্তু সে রোগ সম্পর্কে জানেন না। কারণ তাঁর কোনো পরীক্ষা হয়নি। গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। ফলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসাও জটিল হয়ে যায়! ” চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে একাধিক লক্ষণ ডায়াবেটিস আক্রান্ত জানান দেয়। কিন্তু সে সম্পর্কে সজাগ না থাকলে বিপদ বাড়ে!

কীভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমাবেন?

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌ যাপনের জন্য নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, বয়স ২৫ পার হলেই ভারতীয় মহিলাদের বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। তাছাড়া প্রথম থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত শহুরে মেয়েদের শারীরিক কসরতের সুযোগ কমছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটার মতো এমন কিছু কার্যকলাপ করা জরুরি, যাতে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও সুষম আহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট ভরানোর জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া নয়। ভাত-রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব্জি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। বাড়ির তৈরি খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে।

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share