মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, নির্বাচনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে ২৪০০ কোম্পানি মোতায়েন করতে হবে। তাই কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Armed Police Forces) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে নিরাপত্তার এমন ব্যাপক প্রস্তুতি নজিরবিহীন।
কত কত বাহিনী আসবে (West Bengal Elections 2026)?
নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে কমিশন এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। হিংসা মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) করতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্চে রাজ্যে মোতায়েন হয়ে গিয়েছে ৪২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আরও অতিরিক্ত ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী পাঁচটি ধাপে রাজ্যে আসবে। প্রথম দফায় ৩১ মার্চ রাজ্যে আসছে মোট ৩০০ কোম্পানি। এর মধ্যে সিআরপিএফ ১২৫ কোম্পানি, বিএসএফ ১০০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২৫ কোম্পানি। আইটিবিপি ও এসএসবি ২৫ কোম্পানি করে। দ্বিতীয় দফায় ৭ এপ্রিল রাজ্যে আসছে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং ত্রিপুরা থেকে কিছু বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ১০ এপ্রিল আসবে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী। এই ধাপে জম্মু কাশ্মীরের পাশাপাশি মণিপুর থেকেও আসছে বাহিনী । চতুর্থ ধাপে ১৩ এপ্রিল ২৭৭ কোম্পানি বাহিনী আসবে। অসম, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ড থেকে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা বাংলায় আসবেন। পঞ্চম ধাপে ১৭ এপ্রিল আসবে সর্বোচ্চ ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে অসম থেকে ৪৪৩ কোম্পানি সিএপিএফ আসবে। এছাড়াও কেরল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, সিকিম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব এবং রাজস্থান সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে মোট ৩০০ কোম্পানি বাহিনী (Central Armed Police Forces) আসবে।
কীভাবে নির্বাচনে কাজ করবে বাহিনী?
বাহিনীর প্রত্যেক দিনের কাজের বিবরণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে। বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) কথা মাথায় রেখে কমিশন পশ্চিমবঙ্গে সিআরপিএফের সেক্টরের আইজি শলভ মাথুরকে বাহিনী মোতায়েনের জন্য ‘স্টেট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর’ হিসেবে নিযুক্ত করেছে। প্রতিটি কোম্পানিতে (Central Armed Police Forces) অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকবেন। ৯টি সেকশনের মধ্যে ৮টি পোলিং স্টেশনে ব্যবহার করা হবে এবং ১টি সেকশন কুইক রেসপন্স টিম হিসেব কাজ করবে ৷ ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজ্য থেকে চলে যাবে। তবে ২০০ কোম্পানিকে রাজ্যে রাখা হবে যারা ইভিএম, স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং সেন্টারের নিরাপত্তা দেবে। ভোটের পর গণনা পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে রাজ্যে। বাকি কোম্পানি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই ফিরে যাবে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
ভোটাররা যাতে কোনো ভয়ভীতি বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর মূল লক্ষ্য। নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং প্রার্থী চয়নে কোন চাপের মুখে না পড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ।
স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি
রাজ্যের যে সমস্ত এলাকা বা বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে এরিয়া ডোমিনেশন (Area Domination) বা রুট মার্চ শুরু করা হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ভোটে মনোনয়ন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ব্যাপক ভাবে হিংসার স্বীকার হয়েছে রাজ্যবাসী। তাই কমিশন নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ ভাবে তৎপর।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা
ভোটের দিন তো বটেই, নির্বাচনের আগের ও পরের দিনগুলোতেও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এই বিশাল বাহিনীকে (Central Armed Police Forces) কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হবে।
বাহিনী মোতায়েনের পরিসংখ্যান এক নজরে
বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। একদিকে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছে যে, এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের মতে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এবার কোনো প্রকার আপোষ নীতি অবলম্বন করতে নারাজ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বাহিনী (Central Armed Police Forces) ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করবে।

Leave a Reply