India FDC Medicines Ban: জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ১৬টি ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! তালিকায় কী কী? কেন এই সিদ্ধান্ত?

16-popular-medicines-banned-in-india-check-list

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

হজমের অসুবিধা হোক কিংবা ভারি খাবার খাওয়ার পরে বমি ভাব! এমন যে কোনও ফি-দিনের অসুবিধায় কিছু ওষুধ নিত্যসঙ্গী। আবার সামান্য জ্বর, পেটে ব্যথার অসুবিধা হলেও দেদার সেই সব ওষুধ খাওয়া হয়। এমন বেশ কিছু সহজলভ্য ওষুধ আসলে বিপদ বাড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিয়েই তাই সেই সব ওষুধ বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রমাণ পেয়েছেন, ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন বা এফডিসি (FDC) ওই ওষুধ নিয়ম মাফিক তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের (Public Health) উপরে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

কোন কোন ওষুধ নিষিদ্ধ হল?

কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health) তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ১৬টি ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ১৬টি ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রি ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তালিকায় রয়েছে—

  • ১. নিমেসুলাইড ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
  • ২. এসিক্লোফেনাক ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
  • ৩. সেফিক্সিম ২০০ মিগ্রা + ওফ্লক্সাসিন ২০০ মিগ্রা
  • ৪. সেফট্রিয়াক্সোন ২৫০ মিগ্রা + সালব্যাকটাম ১২৫ মিগ্রা
  • ৫. অ্যামক্সিসিলিন ২৫০ মিগ্রা + ক্ল্যাভুলানিক অ্যাসিড ১২৫ মিগ্রা
  • ৬. সিটিরিজিন ৫ মিগ্রা + ফেনাইলএফ্রিন ১০ মিগ্রা
  • ৭. ডাইক্লোফেনাক ৫০ মিগ্রা + সেরাটিওপেপটিডেজ ১০ মিগ্রা
  • ৮. প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা + ট্রামাডল ৩৭.৫ মিগ্রা
  • ৯. ট্রিপসিন ৪৮ মিগ্রা + ব্রোমেলিন ৯০ মিগ্রা + রুটোসাইড ১০০ মিগ্রা
  • ১০. মেফেনামিক অ্যাসিড ২৫০ মিগ্রা + ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা
  • ১১. ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৫০০ মিগ্রা
  • ১২. মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা + ভোগলিবোজ ০.২ মিগ্রা
  • ১৩. গ্লাইমেপিরাইড ১ মিগ্রা + মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা
  • ১৪. ডমপেরিডন ১০ মিগ্রা + প্যান্টোপ্রাজল ৪০ মিগ্রা
  • ১৫. ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট ০.০৫% + নিওমাইসিন সালফেট ০.৫% + মাইকোনাজল নাইট্রেট ২%
  • ১৬. ক্লিন্ডামাইসিন ১% + নিকোটিনামাইড ৪%

ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন কী?

ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) হল এমন একটি ওষুধ, যেখানে দুই বা ততোধিক সক্রিয় উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে একসঙ্গে একটি মাত্র ডোজ ফর্মে (যেমন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল) দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বাতিল হওয়া এই ১৬টি ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপাদান ছিল না। ফলে, এর প্রভাব স্বাস্থ্যের উপরে গভীর ভাবে পড়ছিল।

কেন বাতিল হল এই ১৬টি ওষুধ?

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রোগ নিরাময়ে এই ১৬টি ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর, সেই প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এর ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না তার যথেষ্ট উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের ড্রাগ কন্ট্রোল অথারিটির তরফে জানানো হয়েছে, বাতিল হয়ে যাওয়া এই ওষুধগুলো রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার কারণ, এই ওষুধগুলো যে ধরনের ড্রাগ ব্যবহার করে, সেখানে পরিমাণের রকমফের হচ্ছিল। ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ ড্রাগ দিতে হবে। পরিমাণের সামান্য হেরফের হলেও স্বাস্থ্যে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে। এই ওষুধগুলো সেই ঝুঁকি তৈরি করছিল। ওষুধ বাতিল করার অন্যতম কারণ, রোগীদের মধ্যে একসঙ্গে একাধিক ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছিল। যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। আবার, ওষুধ ঠিকমতো কাজ না করলে রোগীর আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। আর এই কারণেই সম্প্রতি ১৬টি ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

ওষুধ বাতিলের উদ্দেশ্য কী?

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ বাতিল করার মূল কারণ, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা।‌ বাজারে এমন কোনও ওষুধ যদি সহজলভ্য হয়, যা আসলে রোগীকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাহলে সেটা বন্ধ করা জরুরি। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ খাওয়ার পরে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।‌ আবার পাশপাশি নজর রাখা প্রয়োজন ওষুধে কাজ হচ্ছে কিনা। সেটা না হলে রোগীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হয়। তাই বৈজ্ঞানিক দিক এবং আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গির মাপকাঠিতে বিচার করে তবেই বাজারে ওষুধ বিক্রির সম্মতি পাওয়া যায়‌। এই ১৬টি ওষুধ সেই সম্মতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বাতিল হয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share