Username Feature: হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম, সিগন্যালকেও নোটিস কেন্দ্রের, ইউজারনেম ফিচার বন্ধ করবে জোহোর আরাট্টাই

username feature centre issues notices to telegram and signal after warns meta's whatsapp

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম (Username) ফিচার নিয়ে আপত্তি জানানোর পর এবার একই বিষয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) দুই সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছে, ফোন নম্বর গোপন রেখে ইউজারনেমের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা কীভাবে প্রতারণা, ফিশিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারি এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সেই উদ্বেগ মোকাবিলায় তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইউজারনেম ফিচার নিয়ে টেলিগ্রামকে নোটিস

সরকারি সূত্রের খবর, টেলিগ্রামকে পাঠানো নোটিসে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিদ্যমান ইউজারনেম ফিচার চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির মতে, ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহার করলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশি নম্বর বা বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মেটা-র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপকে বিস্তারিত নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, ভারতে ইউজারনেম ফিচার চালুর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু করা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০২১ সালের আইটি বিধি অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সামাজিক মাধ্যম মধ্যস্থতাকারী (Significant Social Media Intermediary) হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের দায়িত্ব রয়েছে ভুয়ো পরিচয়, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। পাশাপাশি পরিচয় চুরি ও প্রতারণা সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলিও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, নতুন ফিচারে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরিচিত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি বা অচেনা ব্যবহারকারীর বার্তার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা-সহ বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংস্থার বক্তব্য।

সরকারের কড়া নজরে হোয়াটসঅ্যাপ

ভারত বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সেই তুলনায় টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সংস্থাটি সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। গত মাসে ভুয়ো ও ফাঁস হওয়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে টেলিগ্রাম ও তার ওয়েব পরিষেবা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। এদিকে দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থা জোহোর মেসেজিং অ্যাপ স্বেচ্ছায় তাদের ইউজারনেম-ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট ফিচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরাটাই-এর চিফ সায়েন্টিস্ট শ্রীধর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিবর্তিত নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থা ভবিষ্যতেও নিরাপদ ও গোপনীয় যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় সরকার

টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর সরকারের এই বাড়তি নজরদারি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা রোধকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর তদন্তের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share