Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

Kangana attacks rahul fresh jab at congress leader amid 'smash the patriarchy' row

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Kangana Attacks Rahul)। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল রাজনৈতিক তরজায়। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিজেপির একটি পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে রাহুলকে নিশানা করে কঙ্গনার মন্তব্য, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুলকে আক্রমণ

বিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুল গান্ধীর নারী অধিকার ও পিতৃতন্ত্র-বিরোধী অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটির একটি ছবিতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, “স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি!” এর জবাবে এক নারী বলেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়।” বিজেপির বক্তব্য, সেখানে রাহুলের মন্তব্যকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। পরের ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান নিয়ে। আরও একটি ছবিতে শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গও আনা হয়। বিজেপির পোস্টের শেষের দিকে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও মহিলা নেই—এমন দাবি তুলে রাহুলের প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে দেখানো হয়। কঙ্গনা এই পোস্ট শেয়ার করেন ও ব্যঙ্গচিত্রটি তুলে ধরেন।

কৃতি-কঙ্গনা বিতর্ক

এই বিতর্কের সূত্রপাত কৃতি শ্যাননের একটি রাখি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গয়না সংস্থা জিভার ৩৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। কঙ্গনা এর আগে পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, রাখি বাঁধার সময় কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল। বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। এর জবাবে কৃতি পোশাকের সঙ্গে সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতাকে এক করে দেখার কথা তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনও মহিলার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তাঁর পোশাক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। পোশাক নিয়ে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

কৃতির পাশে রাহুল

কৃতি-কঙ্গনা বিতর্কের আবহে নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতি শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘কোনও মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করলে তাঁদের ট্রোল করা বন্ধ করা হোক।’ রাহুলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী শিবিরের তারকা সাংসদ কঙ্গনাকেই কি খোঁচা দিলেন তিনি? যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে কারও নামোল্লেখ করেননি, কিন্তু কংগ্রেস সাংসদের এহেন শব্দবাণ যে কঙ্গনার উদ্দেশেই, তেমনটাই অনুমান নেটভুবনের একাংশের।

‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ

রাহুল তাঁর পোস্টে ব্যবহার করেন ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ। এরপরই বিজেপির পোস্টে রাহুলের ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বার্তাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। কঙ্গনা সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়। কঙ্গনার দাবি রাহুল মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও, তাঁর দল কংগ্রেস আদতে নারীদের সমানাধিকার নিয়ে চিন্তিত নয় তাহলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করত। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো যায়নি। একযোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলিকে এই বিল সমর্থন করেনি। স্বার্থপর রাজনীতির জন্য দেশের নারীশক্তির ক্ষতি করেছে তারা।

রাহুল-কঙ্গনা বিতর্ক নতুন মাত্রা

এর আগে পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতেও রাহুল পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের, বাবার, স্বামী বা ছেলের অধীন নন—এমন বার্তা দিয়ে এই ধরনের মানসিকতার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের আবহেই এবার কৃতিকে ঘিরে বিতর্কে রাহুল-কঙ্গনা সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই আবহে  বিতর্কের সূত্রপাত যে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে গয়না সংস্থা জিভা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা জানায়, বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনও অংশের মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করুক, তারা তা চায় না। একটি সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত উদযাপনে বিশ্বাস করি। এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের পরিসরে পোষ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের কথা মাথায় রেখে আমরা সমস্ত মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share