Suvendu Adhikari: ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ থেকে ব্রিগেডের ধর্মসভা, একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu-announces-gita-path-dharma-sabha-west-bengal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চ থেকে একাধিক বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ আয়োজনের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ধর্মসভার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৯ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং ‘একজন সনাতনী’ এবং ‘ভারতমাতার সন্তান’ হিসেবে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আগামী দিনের একাধিক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ

শুভেন্দু জানান, এর আগে ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ, শিলিগুড়িতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে গীতাপাঠ এবং গত বছর পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে বড় কর্মসূচি হয়েছে। এবার সেই আয়োজনকে আরও বড় আকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। গীতার প্রচার ও এই কর্মসূচির প্রস্তুতির প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জ্ঞানানন্দ মহারাজের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গীতাপাঠের কর্মসূচির প্রস্তুতির জন্য জ্ঞানানন্দ মহারাজ একাধিকবার বাংলায় এসেছেন।

এদিন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, তরুণ সন্ন্যাসী রামচন্দ্র দাস মহারাজ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বীরগুণানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ এবং পুরীর ধাম থেকে আসা দ্বৈতাপতি ভবানী প্রসাদের নামও উল্লেখ করেন তিনি। গৌরব মহারাজ, জগৎদাত্রী প্রভু, সর্বানন্দ অবধূত মহারাজ এবং মুরার্জী মহারাজ-সহ একাধিক সাধু-সন্তের উপস্থিতির কথাও জানান।

জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভা

গীতাপাঠের পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ধর্মসভা করার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। জগদগুরু রামভদ্রাচার্যের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে রামভদ্রাচার্য গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানে আসার কথা জানিয়েছেন।

এর পরেই জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভার আয়োজনের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৬ থেকে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচির উল্লেখ থাকলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্রিগেডের মূল অনুষ্ঠানটি ২৪ জানুয়ারি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর বাংলায় আসার কথাও এদিন উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সাধু-মহন্ত তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের গুরুত্ব তুলে ধরবেন।

‘প্রাণ খুলে গীতাপাঠ করুন’, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে ভয় না পাওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “প্রাণ খুলে গীতা পাঠ করুন, গীতা বিতরণ করুন, হনুমান চালিশা পাঠ করুন।” পাশাপাশি শঙ্খ, সিঙ্গা, মৃদঙ্গ, খঞ্জরি ও ঘণ্টা বাজানো এবং হরে কৃষ্ণ মন্ত্র ও নাম কীর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

গোমাতা, গীতা, তুলসী এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধু-সন্তদের অপমানের অভিযোগে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “যাঁরা সাধু, সন্ত ও মহারাজদের অপমান করবেন, বর্তমান সরকার তাঁদের সোজা জেলে পুরবে।” ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্তকে ঘটনার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘সবাই এক থাকতে হবে’, বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান নিয়েও বার্তা

এদিনের বক্তব্যে দেশের ঐক্য নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান বা বক্তব্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং “সবাই এক থাকতে হবে।”

শ্রীরামপুরে স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এই ধরনের বক্তব্যের জবাব দেশের মানুষ দেবে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

সব মিলিয়ে, নেতাজি ইন্ডোরের ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই আগামী কয়েক মাসের জন্য একাধিক বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী—২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভা, যার মধ্যে ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share