মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয় ও সহযোগিতার পথে হাঁটতে চাইছে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে এ বার পরিকাঠামো (PPP Projects) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত পরামর্শদাতাদের তালিকাকে স্বীকৃতি দিল রাজ্যের অর্থ দফতর। সম্প্রতি অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত কুমার মিশ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই (West Bengal) সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের তৈরি যৌথ অংশীদারি প্রকল্পের লেনদেন সংক্রান্ত পরামর্শদাতাদের তালিকা এ বার থেকে পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্যানেল এ’ এবং ‘প্যানেল বি’—এই দুই বিভাগে সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। রাজ্য সরকার সেই তালিকা গ্রহণ করায় এখন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং সরকারি সংস্থাগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত বিশেষজ্ঞদের পরিষেবা নিতে পারবে।
পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ (PPP Projects)
প্রশাসনিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অবস্থান, উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে অকারণ বিরোধে জড়িয়ে না পড়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও মজবুত করতে শীর্ষ আমলাদের নিয়মিত দিল্লি সফরের পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, মাসে অন্তত এক বা দু’বার কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে রাজ্যের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক উদ্যোগেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে কেন্দ্রীয় তালিকা গ্রহণের অর্থ এই নয় যে, রাজ্যের নিজস্ব পরামর্শদাতা তালিকা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য যে নিজস্ব পরামর্শদাতা প্যানেল তৈরি করেছিল, সেটিও বহাল থাকছে। অর্থাৎ, এখন থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় তালিকা থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সংস্থা বেছে নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট দফতর বা স্থানীয় প্রশাসন।
প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার আশঙ্কাও কমবে
প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত পরামর্শদাতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিকল্প বাড়বে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সংস্থার অভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার আশঙ্কাও কমবে। প্রকল্পের (PPP Projects) পরিকল্পনা, আর্থিক কাঠামো তৈরি এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হতে পারে।
নবান্নের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই সংঘাতের আবহ কাটিয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে (West Bengal) নতুন সরকার।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কেন্দ্রীয় নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথ প্রকল্পের কাজ এগোলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে। এই নয়া সমন্বয়ের ফলে আদতে যে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে বেশ গতি (PPP Projects) আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply