Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

Calcutta high court directs state government to utilise bsf in beldanga

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে থাকা পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে (BSF) ব্যবহার করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে।

উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা (Calcutta High Court)

প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্র ও শনিবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল মুসলিম অধ্যুষিত বেলডাঙা। পথ অবরোধ, ভাঙচুর-সহ নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। এই অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। এই মামলার শুনানি হয় দু’দফায়। দুপুর দুটোর পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। সেই সময়ই একাধিক নির্দেশ দেয় উচ্চতর আদালত। আদালত জানিয়েছে, বেলডাঙায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে গত বছরের অশান্তির পর ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশই আপাতত বহাল থাকবে। এর অর্থ হল, ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

আদালতের নির্দেশ

আদালতের নির্দেশ, এলাকায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসককে। নতুন করে যাতে কোথাও অশান্তির আগুন জ্বলে না ওঠে, তার ওপরও নজর রাখতে হবে জেলা প্রশাসনকে। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন, তাহলে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই সময়সীমার মধ্যে পাল্টা বক্তব্য জানাতে পারবেন মামলাকারীরা (Calcutta High Court)।

এদিন শুনানির প্রথম দফায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলা সাম্প্রদায়িক দিক থেকে রাজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল জায়গা। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদের নামে জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুর করা হয়। কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে স্বতঃস্ফূর্ত মামলা দায়ের করে  পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে চারজনকে। জেলার পুলিশ সুপার স্বয়ং জানিয়েছেন, হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল পূর্ব পরিকল্পনা মতোই।

কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশের দাবি 

আইনজীবী বিল্বদল আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় অশান্তির সময় তাদের কাজে লাগায়নি রাজ্য। এই অশান্তির জেরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নর্থ-ইস্টের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগও। এর পরেই তিনি আদালতের (BSF) কাছে আর্জি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তাই এলাকায় জারি করা হোক ১৬৩ নম্বর ধারা। রাজ্যে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হোক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা নিয়ে রাজ্যের কী মতামত? কল্যাণ বলেন, “আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইতিমধ্যেই এলাকায় টহল দিচ্ছে পাঁচ কোম্পানি। আরও পাঁচ কোম্পানি লাগলে দেওয়া হোক, আমাদের (BSF) কোনও আপত্তি নেই (Calcutta High Court)।”

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share