Khan Sir: আরও ঘনীভূত প্রিন্স যাদবের মৃত্যু রহস্য, পোস্টমর্টেম নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন

khan-sir-accused-in-prince-yadav-murder-case-nepal-autopsy-under-question

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানবিন্দু অ্যাকাডেমির পরিচালক রৌশন আনন্দের ভাই প্রিন্স যাদবের রহস্যজনক মৃত্যুকে (Murder Case) ঘিরে ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে বিতর্ক। রৌশন সরাসরি জনপ্রিয় শিক্ষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ফৈজল খান ওরফে ‘খান স্যারে’র (Khan Sir) বিরুদ্ধে তাঁর ভাইকে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। প্রিন্সের পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা! (Khan Sir)

রৌশনের দাবি, তাঁর ভাইকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, এবং এর পেছনে খান স্যার ও তাঁর সহযোগীদের ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পাটনার কদমকুয়াঁ থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। দাবি জানিয়েছেন, খান স্যারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নেপালে ঘটায় জুরিসডিকশন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়নি। ২১ জুন রৌশনের সমর্থক এবং তাঁর ছাত্রছাত্রীরা পাটনা কলেজ থেকে কার্গিল চক পর্যন্ত মোমবাতি মিছিল করেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত খান স্যারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে।

পুরনো দ্বন্দ্ব

উল্লেখ্য, রৌশন ও খান স্যার (Khan Sir) দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দু’জনেই সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কোচিং সেন্টার চালান। রৌশনের অভিযোগ, গত ২ জুন পোস্টার সরানোকে কেন্দ্র করে দুই কোচিং সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য একটি গুলিচালনার ঘটনা সাজানো হয়েছিল। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। রৌশনের আরও অভিযোগ, জেলে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ তাঁর ভাই প্রিন্সের হত্যাকাণ্ড।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

গত ১৩ জুন নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় প্রিন্সের দেহ। গুলিচালানোর (Murder Case) মামলায় নাম জড়ানোর পর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিনি গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন নেপালে। রৌশন বলেন, “খান স্যারের (Khan Sir) করা মিথ্যা মামলায় আমায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমি জেলে থাকাকালীন আমার ছোট ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রিন্সের জন্য ন্যায়বিচার চাই, এবং দাবি জানাই নিরপেক্ষ তদন্তের।” এদিকে, সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন খান স্যার। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পেছনে তৃতীয় কোনও পক্ষ ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে। খান স্যার বলেন, “রৌশন আনন্দ ও আমার মধ্যে যে বিরোধ চলছে, তার সুযোগ নিয়ে কেউ এই ষড়যন্ত্র করেছে। আমি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। দোষী যে-ই হোক, তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তদন্তে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।”

পোস্টমর্টেম নিয়ে সন্দেহ

প্রিন্সের পোস্টমর্টেম হয়েছিল নেপালের কোসি হাসপাতালে। পুরো প্রক্রিয়া মাত্র ২০ মিনিটেই শেষ হওয়ায় নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।সচরাচর একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্টমর্টেমে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি, লিভার-সহ একাধিক অঙ্গের বিস্তারিত পরীক্ষা করতে ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগে। অভিযোগ, প্রিন্সের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ফলো করা হয়নি। প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন (Khan Sir), মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই জানা যাবে মত্যুর প্রকৃত কারণ। বর্তমানে ভিসেরা নমুনা নেপালের ধরান শহরের একটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রশ্ন যেখানে

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোসি হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মৃতদেহ প্রথম দেখেই তাঁর কাছে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পোস্টমর্টেমের সময় কোনও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ দ্রুত পোস্টমর্টেম-পর্ব শেষ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল (Khan Sir)। অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা (Murder Case) হয়নি। যেমন— বিষক্রিয়া পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি, অ্যালকোহল টেস্ট হয়নি, ফুসফুস পরীক্ষা করা হয়নি, পরীক্ষা করা হয়নি জিভ। হৃদ্‌যন্ত্র কাটা হলেও, পুরোপুরি খোলা হয়নি, এবং সর্বোপরি, মাথার সম্ভাব্য আঘাতের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়নি এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে ঘটনাকে ঘিরে সন্দেহ আরও বেড়েছে।

বয়ানে অসঙ্গতি!

প্রিন্সের সঙ্গে নেপালে ছিলেন তাঁর পাঁচ বন্ধুও। প্রথমে তাঁরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সবাই একসঙ্গে ছিলেন এবং প্রিন্স অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু নেপাল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় বদলে যায় তাঁদের বয়ান। নয়া বয়ানে বলা হয়, ঘটনার সময় শুধুমাত্র লাড্ডু যাদব প্রিন্সের সঙ্গে হোটেলের রুমে ছিলেন। বাকিরা গিয়েছিলেন অন্যত্র। লাড্ডুও প্রথমে নিজেকে রুমের বাইরে বলে দাবি করলেও, পরে কবুল করেন, তিনিও ঘটনাস্থলে ছিলেন (Khan Sir)। বারবার বয়ান পরিবর্তনের কারণে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়েছে। যদিও তাঁদের সঙ্গে থাকা এক নেপালি সহযোগী জামিন পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, ঘটনাটি নেপালে ঘটায় তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেপাল পুলিশের ওপরই রয়েছে। তাই ভারতীয় পুলিশ সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না। চূড়ান্ত ভিসেরা রিপোর্ট এবং মৃত্যুর কারণও নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই প্রকাশ করবে। যদি মৃতের পরিবার তদন্তের ফলে সন্তুষ্ট না হয় (Murder Case), তাহলে তাদের ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে নেপাল সরকারের কাছে আপিল করতে হবে (Khan Sir)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share