মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (Bangladesh Air Force) অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী পাক জঙ্গি (Pakistani Taliban Network) নেটওয়ার্কের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিমান বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার (২৬শে এপ্রিল, ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে গোপন অভিযান চালানো হয়েছে।
ওয়ারেন্ট অফিসার-কে ঘিরে তদন্ত শুরু (Pakistani Taliban Network)
তদন্তের সূত্রপাত হয় দুই মাস আগে নিখোঁজ হওয়া জনৈক ‘ওয়ারেন্ট অফিসার’-কে ঘিরে। ওই অফিসার কর্মস্থল থেকে পালিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি টিটিপি (TTP) আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর (Pakistani Taliban Network) হাতে ধরা পড়ার পর জেরায় তিনি বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর (Bangladesh Air Force) ভেতরে টিটিপি-র রিক্রুটমেন্ট বা সদস্য সংগ্রহের কথা স্বীকার করেন।
গ্রেফতার ও আটক
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা, তেজগাঁও এবং চট্টগ্রামের জহুরুল হক ঘাঁটিতে চিরুনি তাল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে অন্তত দুই জন স্কোয়াড্রন লিডার, দশ জন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (JCO) এবং বেশ কয়েকজন বিমান সেনাকে গ্রেফতার (Pakistani Taliban Network) করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও অন্তত ডজনখানেক সদস্যকে আটক রাখা হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া সদস্য
তদন্তের আগেই অন্তত চার থেকে ছয় জন বিমান সেনা তুরস্ক, পাকিস্তান, পর্তুগাল ও নিউজিল্যান্ডে পালিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই জহুরুল হক ঘাঁটির মসজিদের জনৈক ইমাম এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আক্রান্ত বিমান ঘাঁটিগুলোতে বেসামরিক (Bangladesh Air Force) কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি নিম্নপদস্থ কর্মীদের মোবাইল ফোন জব্দ করে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিটিপি-র এই অনুপ্রবেশ মূলত স্পর্শকাতর ইউনিট যেমন রাডার অপারেশন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছিল। কক্সবাজারের উখিয়া অঞ্চলে টিটিপি-র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার একটি পরিকল্পনাও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।
যদিও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদর দফতর থেকে পাকজঙ্গি (Pakistani Taliban Network) প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান বা গ্রেফতার নিয়ে কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিরাপত্তা তল্লাশি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের (Bangladesh Air Force) সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে উগ্রবাদী অনুপ্রবেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply