মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হাওড়া পুরসভার নির্বাচন (Howrah Corporation Election) নিয়ে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রশাসনিক সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই হাওড়া পুরনিগমের (Suvendu Adhikari) নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
হাওড়া ময়দান এলাকার শরৎসদনে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন বকেয়া থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর তাতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা (Howrah Corporation Election)
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আইনি জটিলতা এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ (De-limitation) সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরনিগম থেকে আলাদা করা সংক্রান্ত বিল এবং তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের কিছু অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে ফাইল চালাচালি হয়েছিল, যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরপ্রশাসক দিয়ে এই পুরনিগমের দৈনন্দিন কাজ চালানো হচ্ছে, যার কারণে নাগরিকদের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। পুর নির্বাচনে (Howrah Corporation Election) আসবে গতি।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও রাজনৈতিক বার্তা
এই অচলাবস্থা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া বার্তা দিয়ে জানান, তাঁর সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুদ্ধার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক স্তরে যে সমস্ত জটিলতা ও ফাইল আটকে থাকার সমস্যা ছিল, তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। আমি হাওড়াবাসীকে (Howrah Corporation Election) আশ্বস্ত করতে চাই যে, আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়। এই বছরের মধ্যেই আপনারা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নতুন পুরবোর্ড গঠন করতে পারবেন।” আপাতত তিনমাসের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যতদিন না ভোট হচ্ছে, ততদিন পর্যন্তও একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। যতগুলি জলাশয় বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন শুধু পুরপরিষেবার নিরিখে নয়, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে মুখ খোলায় নির্বাচন কমিশনও যে দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করবে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। আগামী দিনগুলিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ কবে ঘোষণা হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply