মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে এবার যানজটমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হল পবিত্র বকরি ইদ (Bakrid)। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের কড়া নির্দেশিকা এবং আইনশৃঙ্খলার সঠিক বাস্তনায়নের ফলে রাজ্যের পথঘাট অবরুদ্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে বা প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে নামাজ পড়ার বহু বছরের পুরোনো চেনা ছবি এবার আর দেখা যায়নি। ফলে উৎসবের দিনটিতেও কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলির প্রধান সড়কগুলিতে তীব্র যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ।
সড়ক অবরুদ্ধ না করার কড়া প্রশাসনিক বার্তা
পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ নির্দেশনায় এবারের ইদের আগে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ধর্মীয় বা সামাজিক কোনও অনুষ্ঠানের নামেই রাজ্যের জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক বা শহরের মূল রাস্তা কোনওভাবেই বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করা যাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতে কোনও বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় মুসলিম জননেতাদের সঙ্গে আগেই বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে আবেদন জানানো হয়, রাস্তায় নামাজ না পড়ে নামাজের আয়োজন যেন স্থানীয় ইদগাহ, মসজিদ প্রাঙ্গণ (Bakrid) বা নির্দিষ্ট ঘেরা মাঠের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সরকারি এই নির্দেশিকা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়, তার জন্য আজ সকাল থেকেই কলকাতার পার্ক সার্কাস, রেড রোড সংলগ্ন এলাকা, জাকারিয়া স্ট্রিট এবং হাওড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল।
উৎসবের আনন্দ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ
সরকারি এই কড়াকড়ির মধ্যেও উৎসবের আমেজে কোনও খামতি দেখা যায়নি। রাজ্যের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই বকরি ইদের নামাজ আদায় করেন। তবে সবটাই সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থান ও ইদগাহের (Bakrid) ভেতরে। রাস্তাঘাট ফাঁকা (Kolkata Eid Namaz) থাকায় অন্যান্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।
কলকাতার এক বাসিন্দা জানান, “বিগত কয়েক দশক ধরে ইদের দিন সকালের দিকে কলকাতার বুক চিরে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। বাস, ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজও সম্পন্ন হয়েছে, আবার সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে উৎসবের দিনগুলিতে বড় রাস্তা বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে নামাজ পড়ার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেই সমস্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন (Bakrid)।
তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় আচরণের কারণে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার বা জনজীবন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। আজ ইদের দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে গিয়ে গো-মাতার পুজো এবং আরতিতে অংশ নেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বস্তরের সহযোগিতা ও শান্তি বজায়
পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশিকা কার্যকরের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষ এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলেছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি। রাস্তাঘাটে (Kolkata Eid Namaz) সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ডাইভারশন রোডগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কড়া প্রশাসনিক নজরদারি এবং আমজনতার সহযোগিতায় এবারের বকরি ইদ পশ্চিমবঙ্গে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply