Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

jahangir-khan-wife-rezina-bibi-arrested-falta-violence-case

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থানায় হামলা ও ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি করল পুলিশ। শনিবার সকালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনা বিবি ওরফে রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, থানায় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রেজিনা এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পালানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত?

তদন্তকারীদের দাবি, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং জাহাঙ্গিরকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক করেন রেজিনা বিবি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জাহাঙ্গিরের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হবেন এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানার উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ: নেতৃত্বে রেজিনা বিবি

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসা এলাকায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বহু বিক্ষোভকারী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ রক্ষা পেতে নিকটবর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন রেজিনা বিবি। তিনি এলাকার বাসিন্দা এবং বহিরাগতদের উস্কানি দিয়ে বেআইনিভাবে জমায়েত সংগঠিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর জোরদার অভিযান

এই ঘটনার পর বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গুন্ডামি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মতো কার্যকলাপ সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

দেশদ্রোহ-সহ একাধিক ধারায় মামলা

ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খান-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রেজিনা বিবির গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, থানায় হামলার ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না। ফলতা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টিও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share