Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

india-japan-10-trillion-yen-investment-ai-defence-cooperation

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশের হাত ধরে ভারতে বিনিয়োগের নতুন সকাল! ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ১০ বছরে ভারতের জন্য ১০ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে সম্মত হল দুই দেশ।

হাজার বছরের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দুই দেশের

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা করেছে দুই দেশ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কৌশলগত নয়, দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বড় জোর

এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি ভারত ও জাপানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এআই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোদির কথায়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বই আগামী দিনে ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতার সমন্বয় বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা (Advanced Manufacturing) এবং পরবর্তী প্রজন্মের পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়

শীর্ষ বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও জাপান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ‘নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা ইউনিকর্ন’ (Naval Radio Antenna ‘Unicorn’) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করবে। মোদির বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

স্বাস্থ্য ও বায়োটেক ক্ষেত্রেও জোর

ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বের জন্য আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।

বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ

অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছে ভারত ও জাপান। আগামী এক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন (১০ লক্ষ কোটি) ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ ভারতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে দুই দেশ।

ইন্দো-প্যাসিফিকে যৌথ কৌশল

শীর্ষ বৈঠকের শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাই একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলাই দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম ভারত ও জাপান। এদিন ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করবে। একসময় যে ভারত-জাপান সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এবারের শীর্ষ বৈঠকের একাধিক চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share