Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

union-education-minister-dharmendra-pradhan-quits

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা দুই পাতার একটি খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং বিষয়টি যাতে আরও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে তাঁর চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল।

২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে স্বচ্ছতা আরও বাড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি ফলাফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরও কিছু ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা তৈরি করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে গিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় নির্ধারণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আবেদন জানান, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তি, দীর্ঘ আইনি লড়াই বা রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের যুবসমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উন্নত ভারতের প্রকৃত নির্মাতা দেশের তরুণ প্রজন্মই।চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং সকল সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওডিশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের সেবায় যে কোনও ভূমিকায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share