Americans: নিউইয়র্কে ২৯ আগস্ট ‘সর্বজনীন একাত্মতা’ উদ্‌যাপন, থাকছেন মোহন ভাগবত

americans-gather-new-york-universal-oneness-celebrations

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৯ আগস্ট নিউইয়র্ক শহরে আয়োজিত হতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সমাবেশ। ‘অ্যাহেড ফোরাম’ বা ‘এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগের জন্য আমেরিকান হিন্দু’ সংগঠনের উদ্যোগে দেশজুড়ে শতাধিক সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, সেবামূলক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ‘সর্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন’। হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাখিবন্ধনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্ব সম্প্রীতির সমকালীন বার্তা তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানে থাকবেন মোহন ভাগবত (Americans)

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি থাকবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হতে পারে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মার্কিন মুলুকে বড় জনসমাবেশে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা বিরল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। ‘সর্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন’ এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আমেরিকাজুড়ে সামাজিক সংহতি, বহুত্ববাদ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ হিন্দু সংগঠনগুলির সমাবেশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান মার্কিন জনজীবনে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ব্যবসা, সরকারি পরিষেবা, জনকল্যাণ ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করবে।

‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

রাখিবন্ধনের প্রচলিত তাৎপর্য ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্ককে সম্মান জানানো হলেও, এই আয়োজন সেই ভাবনাকে পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করতে চায়। সম্প্রদায়, রাষ্ট্র, মানবসমাজ, প্রকৃতি এবং সমগ্র সৃষ্টির প্রতি পারস্পরিক সুরক্ষা ও দায়বদ্ধতার বার্তাও এতে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের ধারণা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ ‘সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার’। সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন দায়িত্ব এবং সেবার মাধ্যমে সমকালীন বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলায় এই দর্শনকে একটি কাঠামো হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, আঞ্চলিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক পটভূমির মানুষকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে এই আয়োজন বৈচিত্র্য বজায় রেখেও কীভাবে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি বহুত্ববাদী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, সেই বার্তাও দেবে।

অনুষ্ঠানে থাকবেন যাঁরা

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যুব নেতৃত্ব, প্রাক্তন সেনাকর্মী, ধর্মীয় নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মন্দির, যোগচর্চা সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেবামূলক সংগঠন, ভাষাভিত্তিক ও আঞ্চলিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদলও অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাগবত ২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতের অন্যতম পরিচিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি, স্বেচ্ছাসেবা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সমাজসেবার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরএসএস

১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। দেশজুড়ে নিয়মিত সমাবেশ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মতো ক্ষেত্রে কাজ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। অ্যাহেড ফোরাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হিন্দু সংগঠন ও সম্প্রদায়ের নেতাদের একত্রিত করে গঠনমূলক যোগাযোগ, নাগরিক অংশগ্রহণ ও সংলাপকে উৎসাহিত করার একটি যৌথ মঞ্চ। বিভিন্ন অংশীদারিত্ব ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে হিন্দু দর্শন, সংস্কৃতি এবং মার্কিন সমাজে হিন্দু সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে বৃহত্তর বোঝাপড়া তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানটি সংবাদমাধ্যমের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। সাংবাদিকেরা ভাগবত-সহ বিশিষ্ট বক্তাদের বক্তব্য কভার করার পাশাপাশি আয়োজক, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতা, যুব অংশগ্রহণকারী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ও বৃহৎ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের দৃশ্যও তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া মার্কিন মুলুকে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিকাশ, আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগ, স্বেচ্ছাসেবা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র মতো প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share