Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

odisha-kandhamal-maoist-arms-dump-firearms-ieds-explosives

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

ন’টি দল নিয়ে অভিযান

কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

অভিযান চলবে

জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share